পুলিশ ‘পিটিয়ে’ গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম

যশোর প্রতিনিধি ২১:৪০ , নভেম্বর ০৯ , ২০১৮

 

আহত ইউপি সদস্য ও তার ভাতিজাযশোরের ঝিকরগাছায় ভুয়া ডিবি পুলিশ সন্দেহে তিন কনস্টেবলসহ চার জনকে পেটানোর ঘটনা ঘটেছে। এরপর থেকে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়েছে পড়েছে গোটা এলাকা। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে ঝিকরগাছার হাজিরবাগ ইউপির মাটিকোমরা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- ডিবির কনস্টেবল মুরাদ হোসেন, শিমুল হোসেন ও মামুন আলী এবং প্রাইভেটকার চালক শাওন। আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সকালে হাজিরবাগ ইউপির সদস্য ফারুক হোসেন ও তার ভাইপো আশাদুল ইসলামসহ অর্ধশতাধিক লোককে আটক করেছে পুলিশ।

ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের দাবি, পুলিশ পিটিয়ে তাদের দুজনেরই পা ভেঙে দিয়েছে। পুলিশ বলছে, পালাতে গিয়ে তারা আহত হয়েছেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ ওই গ্রামের ৪৪ জনকে আটকের কথা স্বীকার করেছে।

হাজিরবাগ ইউপির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি গত দুই দিন ধরে ঢাকায় আছি। ঘটনা ঘটেছে, আমি শুনেছি। ’  

ঝিকরগাছা থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘এএসআই আজগর আলীর নেতৃত্বে অভিযানে গিয়েছিল ডিবি পুলিশের দল। গ্রামবাসী তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়েছে।

পুলিশ দুই জনকে পিটিয়ে জখম করেছে, এ অভিযোগ ঠিক না। ওই দু’জন ছাদের ওপর থেকে লাফ দিয়ে পালাতে গিয়ে আহত হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের কয়েকজন জানান, সম্প্রতি জহিরুল নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে কয়েকজন। তারা পুলিশ পরিচয়ে নিরীহ লোকজনকে আটক করে অর্থবাণিজ্য করছিল। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে, পুলিশ পরিচয়ধারীরা ওই মাদক ব্যবসায়ীর তথ্যমতে এলাকার নিরীহ মানুষকে মাদক দিয়ে আটক করে টাকা আদায় করতো। এছাড়াও গ্রামে ছিনতাই, চুরির ঘটনাও বেড়ে গিয়েছিল। এতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ পরিচয়ে চার ব্যক্তি গ্রামে ঢোকে। টের পেয়ে গ্রামবাসী তাদের ঘিরে ফেলে এবং পরিচয় জানতে চায়। কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনও কর্মকর্তা ছিল না। গ্রামবাসীর সন্দেহ হয় তারা ভুয়া পুলিশ। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এতে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই চার জনকে পিটুনি দেয় ও একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে। ওই বাসে অস্ত্র, মাদকদ্রব্যও ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় ফাঁড়ি ও থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

এলাকাবাসীর দাবি, ভুয়া পুলিশ সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনার পর পুলিশ গ্রামে গণগ্রেফতার করছে। অন্তত ৭০-৮০জনকে ইতোমধ্যে আটকও করা হয়েছে। এদের মধ্যে মাটিকোমরা গ্রামের বাসিন্দা ও হাজিরবাগ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফারুক হোসেন ও তার ভাইপো আশাদুল ইসলামকে আটকের পর পিটিয়ে পা ভেঙ্গে দিয়েছে পুলিশ। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশের অভিযানে ২-৩টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও গ্রামবাসীর দাবি।

 

 

/এনআই/

x