কারাগারের গম পাচারের অভিযোগ, ছবি তোলায় সাংবাদিককে মারধর

বরিশাল প্রতিনিধি ০৪:২৯ , জানুয়ারি ১৩ , ২০১৯

পাচারের সময় পুলিশের হাতে আটক কারাগারের গমবরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিপুল পরিমাণ গম পাচারের সময় পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে আটক গম ছাড়িয়ে নিতে পুলিশ ও কারারক্ষীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও টানাটানির ঘটনা ঘটে। এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করায় দৈনিক যুগান্তরের ফটোসাংবাদিক শামীম আহমেদকে বেদম মারধর করে কারাগার কম্পাউন্ডে আটকে রাখেন কারারক্ষীরা। শনিবার (১২ জানুয়ারি) বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

পরে বরিশালের সাংবাদিকরা কারাগারে গিয়ে প্রতিবাদ জানালে সাংবাদিক শামীমকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ। বরখাস্ত কারারক্ষীরা হলেন- মো. উজ্জ্বল, আবু বক্কর ছিদ্দিক খোকন, মো. সাইদ, আবুল খায়ের ও মো. কাওছার।

এদিকে সাংবাদিক নির্যাতন এবং গম কালোবাজারীর ঘটনায় জেলার ইউনুস জামানের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশাল কারাগার থেকে বিপুল পরিমাণ গম বিক্রির জন্য ভ্যানযোগে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে বিকালে কারাগার এলাকা থেকে দুই ভ্যান বোঝাই ২২ বস্তা গমসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা। এ সময় গমসহ আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে কারারক্ষীরা। এ ঘটনার ছবি সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যান ফটো সাংবাদিক শামীম। তিনি ছবি তোলা শুরু করলে কারারক্ষীরা তাকে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে শামীমকে কারাগার কম্পাউন্ডে আটকে নির্যাতন চালানো হয়।

মারধরের শিকার ফটো সাংবাদিক শামীমপরে খবর পেয়ে বরিশালের সাংবাদিকরা কারাগারে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। সাংবাদিকদের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত পাঁচ কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া কারা ফটকের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মাইনুল ইসলাম জানান, এর আগেও কয়েকটি ভ্যান বোঝাই করে নগরীর বাজার রোডের গাজী স্টোরে পাঠানো হয়। শনিবার কারাগার থেকে পাচারের সময় দুই ভ্যান বোঝাই ২২ বস্তা গমসহ দুই জনকে আটক করা হয়।

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুল ইসলাম জানান, শুধু পাঁচ জনকে সাময়িক বহিষ্কারই নয়, ওই ঘটনায় কারা ফটকের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্য অভিযুক্তদেরও শনাক্ত করে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বারবার সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বরিশালের সাংবাদিক সমাজ। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের বরিশাল ব্যুরো প্রধান মুরাদ আহমেদ বলেন, ‘গম কালোবাজারী এবং সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় জেলার ইউনুস জামানের ইন্ধন রয়েছে। এ ঘটনায় জেলারকেও বিচারের আওতায় আনা উচিৎ।’

যুগান্তরের ব্যুরো প্রধান আকতার ফারুক শাহীন বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন দফতর এবং প্রশাসনের দুর্নীতির খবর সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’ এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

/টিটি/

x