ক্রেতা সংকটে বরগুনার শুঁটকি উৎপাদনকারীরা

সুমন সিকদার, বরগুনা ০৭:৫৩ , জানুয়ারি ১৩ , ২০১৯

বরগুনার শুঁটকি পল্লীতে মাছ শুকোতে ব্যস্ত কর্মীরাভরা মৌসুমেও উপকূলীয় জেলা বরগুনার শুঁটকিপল্লিতে ক্রেতা নেই। স্থানীয় পর্যায়ের কিছু ক্রেতা আছেন, কিন্তু তা সরবরাহের তুলনায় কম। এদিকে, সংরক্ষণাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় শুঁটকি মাছ উৎপাদনকারী ব্যক্তি এবং এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অন্যরা সংকটে পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে নামমাত্র দামে শুঁটকি বিক্রি করছেন।

তালতলী উপজেলার আশার চর, পাথরঘাটা উপজেলার নতুন বাজার ও রুহিতা এলাকায় জেলার তিনটি বৃহৎ শুঁটকিপল্লি রয়েছে। এ তিন এলাকার হাজারও জেলে শুঁটকি উৎপাদনে জড়িত।

শুঁটকি উৎপাদনকারীরা জানান, প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতেই পল্লিতে ছুটে আসেন পর্যাপ্ত ক্রেতা। কিন্তু এবার ভরা মৌসুমেও ক্রেতার দেখা নেই। এদিকে, শুঁটকি সংরক্ষণের কোনও ব্যবস্থাও নেই। এতে তাদের উৎপাদিত শুঁটকি স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে অনেক কম মূল্যে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।

ক্রেতা কমে যাওয়ায় শুঁটকি না দিয়ে কাঁচা মাছ বিক্রি করে দিচ্ছেন জেলেরাতারা আরও জানান, একসময় জেলায় অনেক শুঁটকিপল্লি ছিল। নানা সমস্যায় সেগুলো বন্ধ হয়ে এখন আছে মাত্র তিনটি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শুঁটকি উৎপাদিত হয় তালতলীর আশারচরে। এই চরে প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতে অস্থায়ী ঘর তুলেন অনেক জেলে।

তারা সাগর ও নদী থেকে ভোল কোড়াল, রুপসা, বাইন, ছুরি, লইট্টা, পোয়া, ফ্যাসা, তপসী, বৈরাগী, ফাইলসাসহ আরও অনেক নাম না জানা মাছ শিকার করে প্রাকৃতিক উপায়ে শুঁটকি উৎপাদন করেন। মৌসুম শেষে যে আয় হয় তা দিয়েই টেনেটুনে চলে বছরের বাদবাকি দিনগুলো। ধারদেনা ও দাদন নিয়ে এই চরে আসেন জেলেরা। তবে এবছর এখনও ক্রেতার দেখা না পেয়ে ঋণ ও দাদনের টাকা কীভাবে শোধ করবেন তা নিয়ে দিশেহারা পড়েছেন।

বারেক হাওলাদার নামের এক শুঁটকি উৎপাদনকারী বলেন, ‘বছর বছর শুঁটকি ব্যবসায়ীর সংখ্যা কইম্মা যাইতেছে। এরকম চললে একসময় এই ব্যবসাই মোগো বন্ধ কইরা দেওয়া লাগবে।’

বস্তা ভর্তি শুঁটকি মাছ নিয়ে অপেক্ষা, দেখা মিলছে না ক্রেতারআবদুস সালাম, কামাল, বেল্লালসহ আরও কয়েকজন উৎপাদনকারী জানান, বঙ্গোপসাগরের একদম তীরে হওয়ায় শুঁটকি উৎপাদনের জন্য আশারচর ভালো জায়গা। কিন্তু এখান থেকে শুঁটকি পরিবহনের ভালো ব্যবস্থা নেই। কম মূল্যে এখানে শুঁটকি পাওয়া যায় বলে প্রতি বছর ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকে এখানে। কিন্তু এবার ক্রেতার দেখা নাই।

তারা আরও জানান, এইসব অঞ্চলে যদি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ফিডমিলসহ শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে উঠতো, তাহলে তাদের এত বিপাকে পড়তে হতো না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদ আকন জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার দৈন্যদশার কারণে এই সব এলাকায় ব্যবসায়ীরা আর শুঁটকি কিনতে আসে না। এখান থেকে শুঁটকি কিনে শহর পর্যন্ত নিতে অনেক টাকা পরিবহনে চলে যায়। কিন্তু এর চেয়ে কক্সবাজারসহ অন্য জায়গা থেকে শুঁটকি কিনলে পরিবহন খরচ এত লাগে না।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘শুঁটকি শিল্প রক্ষা ও এর বিকাশে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

/এমএ/

x