শত বছর পর নতুন ঠিকানায় ফেনী কারাগার

রফিকুল ইসলাম, ফেনী ০৯:০৪ , জানুয়ারি ১৩ , ২০১৯

ফেনী

শত বছর পর ফেনী জেলা কারাগার নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছে। শনিবার (১২ জানুয়ারি) ভোর ৫টা থেকে ৫টি ভ্যান-গাড়িতে করে ৮ শতাধিক বন্দিকে পুরাতন কারাগার থেকে শহরতলীর রানীরহাটে নবনির্মিত জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এসময় নিরাপত্তার জন্য কারারক্ষী ছাড়াও পুলিশের ১শ’ সদস্য, র‌্যাব, সাদা পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়।

স্থানান্তর প্রক্রিয়া তদারকির কাজে নিয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি প্রিজন এ.কে.এম ফজলুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৮ শতাধিক বন্দিকে ৫টি ভ্যান-গাড়িতে করে স্থানান্তরকালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফেনী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত  সহযোগিতা করেছে। নতুন কারাগার চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে আজ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এত করে মানবেতর জীবন-যাপন থেকে রেহাই পাবে বন্দিরা।’

অন্যদিকে নতুন কারাগারে হস্তান্তরের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারা কর্মকর্তা। এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন, ‘পুরাতন কারাগার থেকে নতুন কারাগার আয়তনে ৫ গুণ বড় হলেও ১১৬ কারারক্ষী পদে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫৩ জন। কারারক্ষীদের এমন শূন্যতায় মধ্যে দিয়েই শঙ্কা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’  

এই বিষয় জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদের কারারক্ষী স্বল্পতার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদের বলেন, ‘নবনির্মিত নতুন কারাগারে বন্দিদের হস্তান্তরের ফলে এখন দুর্ভোগ লাগব হবে। পুরাতন কারাগারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি থাকায় হিমশিম খেতে হয়েছিল।’

সূত্র জানায়, এর আগে গত বছরের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলার বৃহৎ এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে শহরতলীর কাজিরবাগ মৌজায় সাড়ে ৭ একর জায়গায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জেলা কারাগারের জন্য ২৮টি ভবন নির্মাণ শুরু হয়। আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এ কারাগারে ২টি ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা, ২.৫০ কেভি.এ বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, ১০ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ, ২০ কেভি জেনারেটর ছাড়াও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, অভ্যর্থনা মঞ্চ, প্যারেড গ্রাউন্ড, আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার রয়েছে। এ কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা রয়েছে ৩৫০ জন।

প্রসঙ্গত, ১৯১৫ সালে শহরের মাস্টার পাড়ায় মাত্র দেড় একর জায়গার ওপর প্রথমে উপ-কারাগার (সাব-জেল) হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যার বন্দিধারণ ক্ষমতা ছিল দুজন নারী ও ১৭০ জন পুরুষ মিলে মোট ১৭২ জন। ১৯৯৮ সালে উপ-কারাগার থেকে এটি জেলা কারাগারে উন্নীত হয়। তবে জেলা কারাগারে উন্নীত হলেও কোনও সুযোগ-সুবিধা ছিল না সেখানে। শত বছরের পুরনো অবকাঠামো আর অপ্রতুল জায়গায় ধারণ ক্ষমতার তিন-চারগুণ বেশি বন্দি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়তই ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। গাদাগাদি করে শোয়া, থাকা-খাওয়া, গোসলসহ নানা সমস্যায় বন্দিদের দুর্ভোগের শেষ ছিলো না ।

 

/এএইচ/

x