ধর্ষণের অভিযোগ: পুলিশ বলে দুই কর্মকর্তাকে ছাড় দেওয়া হবে না, দাবি এসপির

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ১৭:২৯ , ফেব্রুয়ারি ১১ , ২০১৯

এসআই সেকেন্দার হোসেন ও এএসআই মাজহারুল ইসলাম

মানিকগঞ্জে পুলিশের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক তরুণীকে দুইদিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার(১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) রিফাত রহমান শামিম। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ বলে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।’
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান ও ডিএসবির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হামিদুর রহমান সিদ্দিকী। এসপি বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে ওই তরুণী এবং এ ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্তে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। অপরাধ করলে কোনোভাবে ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই।’
উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা ডাকবাংলোয় এক তরুণীকে দুইদিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে রবিবার সাটুরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন ও এএসআই মাজহারুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগ করেন, সাটুরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন তার খালার কাছ থেকে ৫ বছর আগে এক লাখ টাকা নেন। লাভসহ ফেরত দেওয়ার কথা বলে এই টাকা নেন তিনি। কিন্তু বারবার ফেরত চেয়েও টাকা পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই পাওনা টাকা আনতে বুধবার বিকাল ৫টার দিকে খালার সঙ্গে সাটুরিয়া থানায় যান তিনি। সেখানে সেকেন্দার হোসেনের সঙ্গে দেখা হলে তিনি দুইজনকে নিয়ে সাটুরিয়া ডাকবাংলোয় যান। কিছুক্ষণ পরে সেখানে উপস্থিত হন একই থানার আরেক এএসআই মাজহারুল ইসলাম। কিছুক্ষণ পর তাকে ও তার খালাকে আলাদা ঘরে নিয়ে আটকে রাখে পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে অস্ত্রের মুখে ইয়াবা সেবনে বাধ্য করা হয়। পরে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আটকে রেখে তাদের দুইজনকে ডাকবাংলো থেকে বের করে দেয় তারা।
রবিবার দুপুরে ওই তরুণী মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।

/এফএস/এমওএফ/

x