গরু জব্দ নিয়ে বিজিবি-সীমান্তবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ৩, গুলিবিদ্ধ ১৪

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ১৭:২৫ , ফেব্রুয়ারি ১২ , ২০১৯

  ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছে বিজিবি

 

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় দুই বিজিবি সদস্যসহ ২৮ জন আহত হয়েছেন। একটি বাড়ি থেকে ভারতীয় গরু উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সামসুল আরেফিন ও হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
কর্নেল সামসুল আরেফিন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে সীমান্ত হত্যা বেড়ে যাওয়ায় চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ব্যাপারে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টহল দল চাঁদগাঁওর বহরমপুরে হাবিবুর রহমানের বাড়ি থেকে দুটি ভারতীয় গরু উদ্ধার করে হয়। গরুগুলো বেতনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার পথে ওই বাড়ির নারীরাসহ এলাকার একটি সংঘবদ্ধ দল বিজিবির ওপর হামলা চালায়। আক্রমণে দুই বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় টহল দলের কমান্ডার জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কাজে বাধা না দেওয়ার জন্য গ্রামবাসীকে অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা কথা না শুনে আক্রমণ করলে বিজিবি বাধ্য হয়ে গুলি চালায়। এ সময় প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১৪ জনকে দ্রুত হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি ১২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রংপুর হাসপাতালে নেওয়া পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।’
তবে আহত ও নিহতদের পরিবারের দাবি, গ্রাম থেকে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিতে চাইলে বিজিবি অন্যায়ভাবে তাদের ওপর গুলি চালায়। বাড়ির হবিবর রহমানের ছেলে ইয়াকুব আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘গরুগুলো আমরা নিলাম থেকে কিনেছিলাম। বিজিবিকে নিলাম থেকে কেনার টোকেনও দেখিয়েছি। তারপরও বিজিবি টোকেনসহ আমাদের গরুগুলো নিয়ে যায়।’

তবে বিজিবি এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা কোনও টোকেন দেখাতে পারেনি। গরুগুলো ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছে।
হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুজ্জামান জানান, নিহতরা হলেন উপজেলার রুহিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নবাব (৩৫), একই গ্রামের মৃত জহিরুদ্দিনের ছেলে সাদেক (৪৫) ও জয়নুল (১২)।

হরিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বিজিবি নিরস্ত্র জনসাধারণের ওপর বিনা উষ্কানিতে গুলি চালিয়েছে।  যা নিন্দনীয়। আমার কাছে খবর আছে রংপুর নেওয়া পর আরও দুজন নিহত হয়েছে।’ তবে তিনি কারও নাম জানাতে পারেননি।

বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষিদের শাস্তির দাবি করে তিনি বলেন, এলাকাবাসী এখন উত্তেজিত। তবে আমরা তাদের পাশে আছি। তোদের নিয়মতান্ত্রিক পথে বিচারের দাবি জানাতে বলেছি।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে জনসাধারণ তাকে ঘেড়াও করে। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি পরিস্থিতি সামাল দেন।

এ ব্যাপারে ৫০ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহীন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, ‘আমরা সীমান্তে অনুপ্রবেশ, মাদক ও গরু চোরাচালান প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে আছি। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে যারা অপরাধী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/জেবি/এমওএফ/

x