অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে কুমিল্লা নগরীর ৯০ ভাগ ভবন

মাসুদ আলম, কুমিল্লা ১৩:৫২ , মার্চ ১৫ , ২০১৯




কুমিল্লা নগরী কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় বহুতল ভবনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বাণিজ্যিক ও আবাসিক ব্যবহারে জন্য এসব ভবন গড়ে তোলা হলেও প্রায় ৯০ ভাগ ভবনে নেই অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম। বহুতল ভবনগুলোর পাশে নেই পর্যাপ্ত রাস্তা। যে কারণে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে ব্যঘাত ঘটবে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছে নেই বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার মতো সরঞ্জাম। যে কারণে আগুন লাগলে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর গত কয়েকদিনে কুমিল্লা নগরীর একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ আশঙ্কা বাড়ছে।

সাধারণত ছয়তলার উপরের ভবনকে বহুতল ভবন বলা হয়। কুমিল্লা নগরীতে এমন ভবন রয়েছে তিন শতাধিক। এরমধ্যে নগরীর মনোহরপুর, বজ্রপুর, শুভপুর, রেইসকোর্স, ঠাকুরপাড়া, মোগলটুলী, কাপ্তানবাজার, কালিয়াজুরি ও বাগিচাগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার ভবনগুলোর পাশে নেই পর্যাপ্ত রাস্তা। এছাড়া নগরীর অধিকাংশ এলাকার পুকুর-দিঘিগুলো ভরাট হয়ে গেছে। আগুন নেভানোর পানির ব্যবস্থাও নেই। এছাড়া আগুন লাগলে জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার সিঁড়িও নেই ভবনগুলোতে।

নগরীর মফিজাবাদ কলোনি ও নুনাবাদ কলোনি বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, এসব কলোনিতে প্রতি বছরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি সূত্র জানায়, তারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে চলছেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে তারা মান্ধাতার আমলের সরঞ্জামের ওপরই নির্ভর করছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কুমিল্লা শাখার সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নগরীর অধিকাংশ এলাকার পুকুর-দিঘিগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে। আগুন নেভানোর পানির ব্যবস্থা নেই। ৯০ ভাগ ভবনে আগুন নির্বাপণের সরঞ্জাম নেই। ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের সময় কর্তৃপক্ষকে আরও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া নগরীর সড়ক ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের মতো চওড়া করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। নয়তো ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়ুয়া বলেন, ‘ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের সময় অগ্নিনির্বাপণের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অনুমোদন নেওয়ার পর প্ল্যান পাস করা হয়। ফাঁকফোকর দিয়ে আগুন নির্বাপণ ব্যবস্থা না নিয়ে কেউ যেন ভবন তৈরি করতে না পারে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কুমিল্লা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ বলেন, ‘ছয় তলার উপরে ভবনের আগুন নেভানোর মতো সরঞ্জাম আমাদের নেই। আবেদন পেলে ভবনের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে আমরা তদন্ত করি। তবে আমাদেরও জনবল এবং সরঞ্জাম সংকট রয়েছে। এর মাঝেও আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’

/টিটি/এমওএফ/

x