নিউ জিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলা স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হলেন সিলেটের পারভীন

তুহিনুল হক তুহিন, সিলেট ১৬:৫১ , মার্চ ১৫ , ২০১৯

নিহত হুসনে আরা পারভীন ও  তার বেঁচে যাওয়া স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদনিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত তিন বাংলাদেশির মধ্যে একজন সিলেটের হুসনে আরা পারভীন (৪২)। সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে গেছেন তার অসুস্থ স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

পারভীনের নিহত হওয়ার খবরে দেশে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া পারভীনের স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে নিজের বাসায় রয়েছেন। ফরিদ উদ্দিনের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে। আর হুসনে আরা পারভীনের বাবার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জের জাঙ্গালহাটা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত নুরুদ্দিনের মেয়ে। তারা তিন বোন ও দুই ভাই।

নিউ জিল্যান্ডে বসবাসকারী স্বজনদের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত হুসনে আরার ভাগ্নে মাহফুজ চৌধুরী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় একটি মসজিদ রয়েছে। এই মসজিদের একাংশে নারীরা ও অন্য অংশে পুরুষরা নামাজ আদায় করেন। ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা আগে আমার খালা হুসনে আরা তার অসুস্থ স্বামীকে (প্যারালাইজড) নিয়ে মসজিদে যান। সেখানে খালা তার স্বামীকে হুইল চেয়ার করে মসজিদে পুরুষদের অংশে ভেতরে রেখে নিজে নারীদের অংশে নামাজ আদায় করতে যান।’
মাহফুজ চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় ১৫ মিনিট পর গুলির শব্দ শুনে পারভীন তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য বের হন। এ সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে গুলি করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।’
তিনি জানান, নিউ জিল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিহত পারভীনের মরদেহ এখনও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে পারভীনের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিউ জিল্যান্ডে অবস্থানকারী তার স্বজনদের জানানো হয়েছে।

মাহফুজ চৌধুরী বলেন, ‘মসজিদের বাইরে গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন মুসল্লি হুইল চেয়ারে করে ফরিদ উদ্দিনকে বের করে নেওয়ায় তিনি বেঁচে গেছেন। ফরিদ উদ্দিন ও হুসনে আরা পারভীন ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় বসবাস করতেন।’

নিউ জিল্যান্ডে বসবাসকারী নিহত পারভীনের ভাবি হিমা বেগম ঘটনার পর টেলিফোনে সিলেটে থাকা পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। মাহফুজ চৌধুরী বলেন, ‘সন্ত্রাসী হামলার প্রায় একঘণ্টা পর হিমা বেগম ফোন করে পারভীন খালার নিহতের খবরটি আমাদের জানিয়েছেন। তখন বাংলাদেশ সময় আনুমানিক সকাল ১০টা।’

পারিবারিক সূত্র জানায়, নিহত পারভীন ও ফরিদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। ১৯৯৪ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর তারা নিউ জিল্যান্ডে চলে যান। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন।

আরও পড়ুন:

ক্রাইস্টচার্চে হামলায় নিহতদের একজনের বাড়ি কুড়িগ্রামে

‘যথেষ্ট নিরাপত্তা পেলেই কোথাও খেলতে যাবে বাংলাদেশ’

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় নিহত ৪০: নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনায় যা দেখেছেন ক্রিকেটাররা

‘পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেলো’

১৭ মিনিট ধরে হামলার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করে বন্দুকধারী!

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় মুসলিম বিশ্বের নিন্দা ও ক্ষোভ

 

 

/এপিএইচ/এমওএফ/

x