আজও জুমার আজান দিয়েছিলেন ড. সামাদ

আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম ২২:৩৪ , মার্চ ১৫ , ২০১৯

ড. মো. আবদুস সামাদ

প্রতিদিনের মতো আজ শুক্রবারও মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজের আজান দিয়েছিলেন নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি ড. মো. আবদুস সামাদ। আজ জুমার খুতবার বয়ান দেওয়ার কথা ছিল তার। তবে তার আগেই বন্দুকধারীর বুলেট তার প্রাণ কেড়ে নেয়।

ড. আবদুস সামাদের নিউ জিল্যান্ড প্রবাসী স্ত্রী কিশোয়ারা সুলতানার বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন নিহতের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন।

ড. মো. আবদুস সামাদের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মধুরহাইল্ল্যা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিন সরকারের ছেলে। ১০ ভাই-বোনের মধ্যে ড. সামাদ সবার বড়।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় কথা হয় ড. সামাদের ছোট ভাই আবদুল কাদেরের স্ত্রী রাবেয়া খাতুনের সঙ্গে। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘দেশে থাকাকালীন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও নিউ জিল্যান্ডে গিয়ে তেমন কোনও কাজ করতেন না ড. সামাদ। তবে ধর্মীয় কাজে মনোযোগের পাশাপাশি তাবলিগ জামাতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তিনি নিয়মিত ওই মসজিদে নামাজ পড়তেন এবং নামাজের আগে গিয়ে তিনিই আজান দিতেন। অত্যন্ত পরহেজগার মানুষ ছিলেন ড. সামাদ।’

রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘হামলার ঘটনায় নিহত ও আহতদের ক্রাইস্টচার্চে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে স্বজনদের যেতে দেওয়া হয়নি।’

ড. সামাদের স্ত্রী কিশোয়ারা সুলতানার বরাত দিয়ে রাবেয়া খাতুন আরও বলেন, ‘প্রতি শুক্রবারের মতো আজও স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে মসজিদে যাওয়ার কথা ছিল ড. সামাদের। কিন্তু তার স্ত্রী কিছুটা অসুস্থতা বোধ করায় আজ তিনি (ড.সামাদের স্ত্রী) মসজিদে যাননি। আর মায়ের শরীর খারাপ থাকায় মেজো ছেলে তারেক মোহাম্মদ ও ছোট ছেলে তানভির মোহাম্মদ মায়ের সঙ্গেই বাসায় থেকে যান। আজান দেবেন বলে ড. সামাদ সব মুসল্লির আগেই মসজিদের উদ্দেশে রওনা হন এবং মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজের আজান দেন। জুমার নামাজের খুতবার বয়ানও দেওয়ার কথা ছিল তার (ড. সামাদের)।’

ড. সামাদের বড় ছেলে তোহা মোহাম্মদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর খবর জেনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান তার চাচি রাবেয়া খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমরা জীবিত ড. সামাদকে পাইনি, লাশও পাইনি এখনও। পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে এভাবে মৃত্যুর খবর প্রচার না করাই উচিত।’

গত কয়েক বছর ধরে দুই ছেলে তারেক মোহাম্মদ ও তানভির মোহাম্মদ এবং স্ত্রী কিশোয়ারা সুলতানাকে নিয়ে নিউ জিল্যান্ডে বসবাস করছেন ড. সামাদ। তার তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে তোহা মোহাম্মদ বাংলাদেশেই চাকরি করেন।

ড. আবদুস সামাদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ছিলেন। তিনি গত বছর চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে লেখাপড়া শেষ করে ১৯৮০ সালে  প্রফেসর ড. আবদুস সামাদ কৃষিতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। এর আগে তিনি একবছর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে চাকরি করেছেন। চাকরিরত অবস্থায় ১৯৮৮ সালে তিনি নিউ জিল্যান্ডের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ নিউ জিল্যান্ডেই বসবাস করছেন।

 

/এমএ/

x