বাঘাইছড়ি হত্যাকাণ্ডে আটক হয়নি কেউ, মামলাও নেই

জিয়াউল হক, রাঙামাটি ০৬:৫৬ , মার্চ ২০ , ২০১৯

বাঘাইছড়িতে সাত খুনের ঘটনায় সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীবাঘাইছড়ির সাত খুনের ঘটনায় এখনও কোনও মামলা হয়নি। এমনকি কাউকে আটকও করতে পারেনি পুলিশ। দুর্গম এলাকা হওয়ায় অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়া সুযোগ সবচেয়ে বেশি পাহাড়ে। অন্যদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা সীমান্তবর্তী হওয়ায় দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
বাঘাইছড়ি থানার ওসি এ এম মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘ছয়জনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও বাঘাইছড়ি থানায় কোনও মামলা হয়নি। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে এখন বিপর্যস্ত। বুধবার (২০ মার্চ) দুপুরের মধ্যে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হতে পারে। যদি না হয় রাতের মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।’
এ বিষয়ে বিলাইছড়ি থানার ওসি মো. পারভেজ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছে, মামলার তদন্ত করেছি। নিহতদের মরদেহ সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। তাই আমরা অপেক্ষা করছি।’
গত বছরের ৪ মে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যার পরের দিন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) -এর প্রধান তপন জ্যোতি বর্মাসহ পাঁচজনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করলেও তেমন ফল আসেনি। কমেনি হত্যার ঘটনাও। এরপরও প্রায় ১৫ থেকে ১৭ জনের মতো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত সাতজনকে প্রাণ দিতে হলো। আরও ১৭ জনের মতো চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে বাঘাইছড়ির হত্যার ১২ ঘণ্টার মাথায় বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চগ্যাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই দুটি ঘটনার সঙ্গে পার্বত্য আঞ্চলিক দল সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস ও প্রসীত গ্রুপের ইউপিডিএফকে দায়ী করছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর। তবে জেএসএস এবং ইউপিডিএফ এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই বলছে।
এদিকে পাহাড়ে ২৪ ঘণ্টায় পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার সকালে পৌরসভা মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ হবে বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর।

আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে ব্রাশফায়ারে দু্ই নির্বাচনি কর্মকর্তাসহ নিহত ৭

              সাত খুনের পর এখন থমথমে বাঘাইছড়ি

/ওআর/

x