জামিনে মুক্তি পেলেন সেই দিনমজুর

কুমিল্লা প্রতিনিধি ২২:৩৪ , এপ্রিল ১৮ , ২০১৯

জামিন পাওয়ার পর ব্লাস্ট-এর আইনজীবীর সঙ্গে দিনমজুর আব্দুল মতিন মিয়া (ছবি– প্রতিনিধি)সংযোগ না পেয়েও বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের মামলায় গ্রেফতার দিনমজুর আব্দুল মতিন মিয়া (৪৫) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা দিনমজুর আব্দুল মতিনের জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) প্রকল্প কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছানা উল্লাহ দিনমজুর আব্দুল মতিনের জামিনের আবেদন করেন। মোহাম্মদ ছানা উল্লাহ-ই দিনমজুর আব্দুল মতিনের জামিনে মুক্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন।

জামিন পেয়ে আব্দুল মতিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। কেরোসিনের কুপি জ্বালাই। কখনও বিদ্যুতের বাতি জ্বালাইনি। আজাদ মিয়া ও বাশারদের টাকা দিয়েও বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি। এরপরও বকেয়া বিলের মামলায় আমাকে জেলে পাঠানো হয়। আমাকে যারা হয়রানি করেছে, তাদের বিচার চাই।’

এদিকে, সংযোগ না পেয়েও বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের মামলায় কারাগারে যাওয়া মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুল মতিনকে নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর চান্দিনা অফিস দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ অফিস সূত্র জানায়, দেবিদ্বার জোনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মৃণাল কান্তি চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও বাঙ্গরা-দৌলতপুর জোনের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজুর রহমানকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান মৃণাল কান্তি চৌধুরী বলেন, ‘আব্দুল মতিনের নামের মিটারে প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে সফিকুল ইসলামের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সফিকুল ইসলামও বিষয়টি অফিসকে জানায়নি; আবার বিদ্যুৎ বিলও পরিশোধ করেনি। আব্দুল মতিন নোটিশ পেয়েও তার ঘরে বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি আমলে নেননি; যার কারণে এ ঘটনাটি ঘটেছে।’

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর চান্দিনা অফিসের জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি। আমরা মামলাটি নিষ্পত্তি করেছি।’
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, মোচাগড়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার ২৫৬টি পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৪ বছর আগে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এ আবেদন করে। আবেদনের পর স্থানীয় দালাল আবুল কালাম আজাদ ও আবুল বাসার প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে মিটারপ্রতি ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করে। ওই সময় মতিন মিয়াও আবেদন করেন এবং কর্তৃপক্ষও সংযোগের অনুমোদন দেয়। কিন্তু মতিন মিয়া দালালচক্রকে চার হাজার টাকা দেওয়ার পর বাকি টাকা দিতে পারেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চাতুরির আশ্রয় নেয় দালালরা। মতিন মিয়ার অজান্তে কৌশলে তার আবেদনে একই এলাকার মৃত আব্দুস ছামাদের ছেলে সফিকুল ইসলামের ছবি লাগিয়ে দিয়ে সফিকুলের কাছ থেকেও টাকা নেয় তারা। এদিকে মতিন মিয়ার নামে মিটার বরাদ্দ হলে তাকে না জানিয়ে ২০১৫ সালের ২২ মার্চ সেই মিটারের সংযোগ দেওয়া হয় সফিকুল ইসলামকে। সফিকুল দিব্যি মিটারটি ব্যবহার করে এলেও মতিন মিয়াকে কিছুই জানাননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম দিকে মতিনের নামেই সফিকুল মিটারের বিল জমা দিলেও গত ১৭ মাস ধরে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখেছে। এতে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর চান্দিনা অফিসের এজিএম লক্ষ্মণ চন্দ্র পাল বাদী হয়ে মিটারের অনুমোদন পাওয়া মতিন মিয়ার নামে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে মুরাদনগর থানার এসআই কবির হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আব্দুল মতিনকে গ্রেফতার করে এবং বুধবার দুপুরে তাকে কুমিল্লা আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন–

বাড়িতে নেই সংযোগ, তবু বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের মামলায় কারাগারে দিনমজুর

/এমএ/এমওএফ/

x