হাঁস-মুরগির খামারে বিনিয়োগ একশ কোটি টাকা, ফল ‘ঘোড়ার ডিম’

জাকির মোস্তাফিজ মিলু, ঠাকুরগাঁও ১৪:৩৮ , এপ্রিল ১৯ , ২০১৯

হাঁসের বিচরণের জন্য নির্মীত পুকুর

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের সামনে ৩.১৭ একর জমির ওপর একশ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয় হাঁস-মুরগির খামার। খামারের পুকুরে যেখানে হাঁস ভেসে বেড়ানোর কথা, সেখানে ভাসছে পাশের ক্লিনিকের বর্জ্য; নেই কোনও হ্যাচারি, ডিম ফোটানের যন্ত্র বা ব্রুডার হাউজ। স্থানীয় মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ৩৬ বছর আগে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। রুগ্ন এই খামারের কোনও প্রভাব স্থানীয় হাঁস-মুরগির বাজারগুলোতে দেখা যায় না। গত ১০ বছর ধরে খামারের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ১০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ফলাফল বলা যায় অনেকটাই শূন্য বা ‘ঘোড়ার ডিম’।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাঁস পালনের জন্য সেখানে একটি পুকুর খনন করা হয়। সে পুকুরটি আবর্জনায় ভরে আছে। এতটাই অবর্জনা যে, পুকুরের পানি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। পাশের ক্লিনিকসহ আশপাশের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে পুকুরটিতে। সেখানে একটি হাঁসও দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার মানুষের আমিষের চাহিদ পূরণে উন্নত জাতের হাঁস-মুরগির বাচ্চা সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৯৮২-৮৩ অর্থবছরে সরকারি এই খামারটি স্থাপিত হয়। বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও শুধু অব্যবস্থাপনা এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এই খামার পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে তেমন কোনও ভূমিকাই রাখতে পারছে না।

এ বিষয়ে খামারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, খামারের অবস্থা ভালো নায়। নতুন শেড নির্মাণ, কোয়ার্টার সংস্কার, আধুনিক ইনকিউবিটর মেশিন স্থাপন, ব্রুডার হাউজ ও হ্যাচারি স্থাপন করা জরুরি। কিন্তু এগুলো স্থাপন করা হচ্ছে না। এতে ফল ‘অশ্ব ডিম্ব’। অথচ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ৩.১৭ একর জায়গার মূল্য, অচল গাড়ির ড্রাইভারকে বসে বসে বেতন দেওয়াসহ নানা কাজে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।
তারা বলেন, এই প্রকল্পে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনজর প্রয়োজন। তারা সামান্য সুনজর দিলে ঠাকুরগাঁওয়ের ক্ষুদ্র খামারি ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রকল্পটি থেকে বিপুল অর্থ আয় হবে।

হাঁস মুরগির খামারের অফিস ভবন

স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাঁস মুরগির বাজারে প্রকল্পটি কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেনি। এখান থেকে বাচ্চা সরবরাহ হয় না। একশ‘ কোটি টাকার প্রকল্প আছে ঠিকই, কিন্তু এর কারণে সেখানকার বাজারের মুরগির দামে কোনও পরিবর্তন নেই। অন্যান্য জেলার মতো সেখানেও একই দরে মুরগি ও হাঁস বিক্রি হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সমবায় মার্কেটের মুরগি ব্যবসায়ী কাওসার বলেন, ‘সামান্য কয়েকটি মুরগির বাচ্চা এখানে ফোটানো হয়। তবে তা কখন হয় আর কখন বিক্রি হয়, আমরা জানতে পারি না।’
হাজীপাড়ার একজন দোকানি, তিনি তার দোকানে ডিম বিক্রি করেন। কখনও কখনও খাওয়ার জন্য মুরগি কেনেন। তিনি জানান, ওই খামারের ভেতর যে মুরগি কেনাবেচা চলে, এটাই তিনি জানেন না।

শাহপাড়ার গৃহবধূ আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘কখনও কখনও ফার্মের ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে। বর্তমানে মুরগির দামও বেশি কিন্তু সরকারি খামার থেকে আমরা কোনও সুবিধা পাই না। যদি খামার থেকে ক্রেতাদের কম দামে ডিম ও মুরগি দেওয়া হতো, তবে বাজারে তার প্রভাব পড়তো।
এ ব্যাপারে খামারটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, ‘অব্যবস্থাপনা আছে এটা স্বীকার করতে হবে। এটা দূর করার চেষ্টা হচ্ছে।’

/আইএ/এমওএফ/

x