নৌকার পক্ষে কাজ করায় ইউপি চেয়ারম্যানকে পেটালেন বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ০১:৫৫ , এপ্রিল ২০ , ২০১৯

 

সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষের কাজ করায় একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর হামলার শিকার হয়েছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ হারুন। তিনি বর্তমানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলার শিকার হারুনের অভিযোগ, নৌকার প্রতীকের হয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী তার ছেলে সহ একদল সন্ত্রাসী নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তায় তার ওপর হামলা চালায়।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী উত্তেজিতভাবে বলেন, ‘আমি উত্তর দিতে বাধ্য নই। আমি হামলা করেছি কিনা সেটা আপনারা অনুসন্ধান করে দেখুন।’

এদিকে আহত ইউপি চেয়ারম্যান হারুনের ভাই রজব আলী জানান, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা মার্কা নিয়ে এবং ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বিজয়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানীর সঙ্গে দেখা করতে যান নগরাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন।

নির্বাচনের সময় প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করায় তাকে গালিগালাজ করে আক্রমণ করতে যান উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী। এসময় আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি। এসময় ঘটনাস্থলের কাছে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। তাকে দেখতে পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে মনোয়ার সরকার পাশা, তার চাচাতো ভাই আপেল কমিশনার ও মাসুদ পারভেজ রানাসহ ৬/৭জন মোটরসাইকেল নিয়ে চেয়ারম্যানকে ধাওয়া করে ফুলবাড়ী ব্রাক অফিসের কাছে ব্রিজের অপর পাড়ে গিয়ে আটকায়। একটু পরে সেখানে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসে গোলাম রব্বানী। তিনি চেয়ারম্যানকে মাটিতে ফেলতে বলেন। এরপর তিনি চেয়ারম্যানের বুকেও গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেন। অন্যদিকে তার ছেলে ও চাচাতো ভাইয়েরা কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এসময় নৌকার পক্ষে কাজ করায় তাকে গালিগালাজ করেন। আধাঘন্টা ধরে চলে এই পৈশাচিক নির্যাতন। পরে তাকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে যায় তারা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ইউপি চেয়ারম্যান হারুন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনের সময় নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করি। কিন্তু রব্বানী ভাই বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় আমি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তার পক্ষে কাজ করতে পারিনি। এজন্য রব্বানী ভাই আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। বৃহস্পতিবার গোলাম রব্বানী আমার ওপর পাষবিক নির্যাতন করে।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রার্থী আতাউর রহমান শেখ বলেন, নৌকার পক্ষে কাজ করায় বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান আমার কর্মীদের ধারাবাহিকভাবে হামলা করে আসছে। একই কারণে শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এজাহার আলীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও ইউনিয়ন পরিষদের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাসেন আলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাফর আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফুয়াদ রুহানী বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানীসহ যারা যারা চেয়ারম্যানকে মারধর কেরেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। রেকর্ডের কাজ শেষ হলে বিস্তারিত বলতে পারবো।’

/এআর/

x