আশুলিয়ায় সওজের সড়ক নির্মাণ বন্ধ, যুবলীগের ১০ নেতাকর্মীর নামে মামলা

সাভার প্রতিনিধি ১১:০৪ , এপ্রিল ২১ , ২০১৯

মামলা

আশুলিয়ায় যুবলীগের নোতকর্মীদের বাধায় সড়ক ও জনপদের নির্মাণাধীন ৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি ওই সড়কের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাইড ইঞ্জিনিয়ারসহ কয়েকজনকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ রয়েছে যুবলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় যুবলীগের ১০ নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করেছে।

মামলা সূত্র ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সাগর বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপাল বলেন,‘আশুলিয়ার জিরাবো-তৈয়বপুর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত সড়ক ও জনপদের ৬ কিলোমিটারে ৮শ’ মিটার রাস্তা নির্মাণের জন্য তার মালিকানাধীন সাগর বিল্ডার্স নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই কাজে ৩২ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। দুই মাস আগে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওই প্রকল্পের কাজ শুরু করে। তবে কাজ শুরুর পর থেকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা কবির সরকারের লোক সোহেল মোল্লা নেতাকর্মীদের নিয়ে সড়কের কাজে বাধা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সড়কে ইট, বালু সরবরাহের জন্য ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন-আহ্বায়ক সোহেল মোল্লার ইয়াকুব এন্টারপ্রাইজ নামে প্রতিষ্ঠানকে একটি ওয়ার্ক অর্ডার দেয়। এর পর থেকেই যুবলীগ নেতা ১ নম্বর ইট না দিয়ে ২ নম্বর ইট ও নিম্নমানের বালু সরবরাহ করতে শুরু করে। এছাড়াও ২ গাড়ি ইট দিয়ে ৪ গাড়ি ইটের ক্যাশ মেমোতে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এসব কাজে বাধা দেওয়ায় গত রবিবার (১৪ এপ্রিল) ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মাজহারুল, পল্লাত ও রাকিবুলকে উঠিয়ে বেড়িবাধ এলাকায় নিয়ে যায় যুবলীগ নেতা। পরে তাদের মারধর করে সাদা স্টাম্প ও বেশ কিছু খালি ক্যাশ মেমোতে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এছাড়াও তাদের সঙ্গে থাকা ওই প্রজেক্টের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের মারধর করে সওজের কাজ বন্ধ করে দেয় যুবলীগ নেতা ও তার লোকজন। ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আরও অভিযোগ করে বলেন,‘যুবলীগ নেতার চাপার মুখে তারা ওয়ার্ক অর্ডার দিতে বাধ্য হয়েছে। এর পর ওয়ার্ক অর্ডার পেয়ে নিম্নমানের ইট বালু সরবরাহ ও তাদের কর্মকর্তাদের মারধরের এক পর্যায়ে সওজের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে প্রজেক্ট ইনচার্জ রাসেল বাদী হয়ে সওজের কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগে যুবলীগের ১০ নেতাকর্মীর নামের একটি মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে যুবলীগের যুগ্ন-আহ্বায়ক সোহেল মোল্লা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে আমাদের বেশ কিছু টাকা পাওনা আছে। ওই টাকার চাওয়া পর না দেওয়ায় তাদের সঙ্গে আমাদের বাকবিতণ্ডা হয়। তবে কোনও ধরণের মারামারি ঘটনা ঘটেনি।’

আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,‘ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক সোহেল মোল্লাকে প্রধান আসামি করে আরো ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্বভ হয়নি বলে তিনি জানান।

 

 

/জেবি/

x