পাটকল শ্রমিকদের কর্মসূচি ৭ দিনের জন্য স্থগিত, চালু হচ্ছে পাটকল

খুলনা প্রতিনিধি ০২:৩৭ , মে ২২ , ২০১৯

খুলনারাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলের শ্রমিকরা আন্দোলনের সব কর্মসূচি সাত দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছেন। ফলে বুধবার (২২ মে) ভোর ৬টা থেকে মিলগুলোতে আবারও উৎপাদন শুরু হবে। পাটকল সিবিএ ননসিবিএ ঐক্যপরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মো. খলিলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খলিলুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (২১ মে) জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পাটকল শ্রমিক নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে আন্দোলনের কর্মসূচি এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন থেকে পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরিসহ সমস্যা সমাধানে সাত দিনের সময় চেয়েছে। এর ফলে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শ্রমিকরা বুধবার ভোর ৬টা থেকে কাজে যোগ দেবেন।

খুলনা ও যশোরের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল সিবিএ ননসিবিএ ঐক্য পরিষদ এবং পাটকল শ্রমিক লীগ নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে বকেয়া আদায়ে ৫ মে থেকে কর্মসূচি পালন করে আসছিল।

উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকালে খুলনা জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন নতুন রাস্তা মোড়ে শ্রমিকদের অবরোধ চলাকাল উপস্থিত হন এবং শ্রমিকদের সব দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন এবং কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। এর ভিত্তিতে পাটকল শ্রমিকলীগ, সিবিএ ননসিবিএ ঐক্য পরিষদ রবিবার বৈঠক আহ্বান করে।

রবিবার কর্মবিরতির ১৪তম দিনে ভোর ৬টায় শ্রমিকরা নিজ নিজ কর্মস্থলে না যেয়ে কর্মসূচি পালন করেন। ওই দিন বিকাল ৪টায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নতুন রাস্তা মোড়, আটরা ও রাজঘাটার খুলনা-যশোর মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তিন ঘণ্টার অবরোধ পালন করেন তারা।

উল্লেখ্য, পাটখাতে প্রয়াজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীল কমিশনের রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশোধ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহাল, সব মিল সটআপের অনুকূল শ্রমিক-কর্মচারীদের শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণসহ ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকরা ১৩ মার্চ থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। গত ৭ এপ্রিল বিজেএমসি থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বকেয়া মজুরি ও বেতন প্রদান এবং ১৮ মের মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর শ্রমিকরা অবরোধ ও কর্মবিরতি স্থগিত করে কাজে যোগ দেন। ২৫ এপ্রিল এসে একসপ্তাহ সময় নেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী। এরপর ২ মেও মজুরি না দেওয়ায়, ৫ মে থেকে মিলে উৎপাদন বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন শ্রমিকরা। ঢাকায় শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে সারাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলে এ কর্মসূচি একযোগে শুরু হয়। এ অবস্থায় গত ১৯ মে শ্রমিকরা বুধবার থেকে প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

/আইএ/

x