হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা খসে ৫ শিশুসহ আহত ৯

নোয়াখালী প্রতিনিধি ১০:১৯ , জুন ১২ , ২০১৯

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে পাঁচ শিশুসহ নয়জন আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (১২ জুন) সকাল ৭টায় এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলো−রাফি (২ বছর ৬ মাস), মো. ইসমাইল (৫), ইমাম উদ্দিন (৫), সুমাইয়া (১২), মো. রাসেল (১৬), মো. ইব্রাহিম (৫০), পারুল বেগম (৪৭), বাদশা (৩৫) ও রোজিনা বেগম (২০)।

রোগীর স্বজনরা জানান, সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ শিশু ওয়ার্ডে বিকট শব্দে পলেস্তারা খসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় রোগীর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অনেক অভিভাবক শিশুদের হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র নিয়ে যেতে দেখা যায়।

মাইজদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. হুমায়ুন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার স্টেশনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে অন্য রোগীদের বের করে আনে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, ‘সকাল ৭টায় হঠাৎ শিশু ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে পাঁচ শিশু ও চার অভিভাবকসহ মোট নয় জন আহত হয়। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার জন্য ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থাকে দায়ী করেছেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ১২ জুলাই নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ওয়ার্ডের ছাদ ধসে পড়ে সিনিয়র স্টাফ সেবিকা স্বপ্না মজুমদার ও শিক্ষানবিশ সেবিকা রানী আক্তার নামে দুইজন সেবিকা আহত হয়েছিলেন।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, পুরাতন ভবনটি পুরোটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও স্থান সংকুলানের অভাবে ওই ওয়ার্ডগুলোতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে একাধিকবার ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান জানান, ২০১৫ সালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের পুরাতন ভবনটিকে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিল। পরে ২০১৮ সালের ১২ জুলাই জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে এই ভবনে কোনও ধরনের কার্যক্রম চালানো নিরাপদ নয় মর্মে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সে কারণে পুরাতন ভবনের পশ্চিম পাশে রোগী স্থানান্তরের জন্য বড় বড় তিনটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু কিছু রোগী এরই মধ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ হলে, পুরাতন ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে। সেখানে একটি ১২ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে যা এখনও অনুমোদন হয়নি।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যাহ এবং স্বাচিপের সভাপতি ও নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফজলে এলাহি বলেন, ‘গণপূর্ত বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও মানবিক কারণে ও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার স্বার্থে বিভিন্ন সময় ভবনের সংস্কার করে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি ভবনে টাইলস, এসি ও ভিটি উচুঁর কাজও করেছে গণপূর্ত বিভাগ। ২০১৮ সালে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সচিব জিএম সালাউদ্দিন হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে, গণপূর্ত বিভাগ পরিত্যক্তের বিষয়টি অস্বীকার করেন। ৬ মাস আগেও এ ভবনে গণপূর্ত বিভাগ সংস্কার কাজ করেছে।’

/এআর/এমএমজে/

x