বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানিতে প্রণোদনা প্রত্যাহার ভারতের

হিলি প্রতিনিধি ১৭:০৮ , জুন ১২ , ২০১৯

 

হিলিতে পেঁয়াজের আমদানি বেড়েছেভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানিতে বিদ্যমান প্রণোদনা (ইনসেনটিভ) প্রত্যাহার করে নিয়েছে দেশটির সরকার। পেঁয়াজ রফতানি নিরুৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে তারা। হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পেঁয়াজ রফতানিতে প্রণোদনা প্রত্যাহারের এই আদেশ জারি করা হয়। ভারতীয় পেঁয়াজ রফতানিকারক সংকর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তারা মূলত বাংলাদেশেই পেঁয়াজ রফতানি করে থাকেন। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও প্রণোদনা প্রত্যাহার করা হয়েছে কিনা তা তিনি এখনই বলতে পারছেন না।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন ও পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন জানান, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজের উৎপাদন হয়ে থাকে। সেই পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ও দেশের বাইরে তা রফতানি করতে পেঁয়াজ রফতানিকারকদের সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ ভাগ অর্থ প্রণোদনা দেওয়া হতো। যেমন ভারত থেকে বাংলাদেশে ১শ টন পেঁয়াজ রফতানি করলে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রফতানিকারককে ১ লাখ রুপি ইনসেনটিভ দেওয়া হতো। তবে এখন পেঁয়াজ রফতানি নিরুৎসাহিত করতে এই প্রণোদনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে এবং মঙ্গলবার থেকেই সেটি কার্যকর করা হয়েছে। প্রণোদনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে ভারত থেকে আগে যে দামে পেঁয়াজ কিনতে হতো তার চেয়ে কেজিপ্রতি ১ রুপির মতো বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনতে হবে। এর প্রভাব দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামের ওপরও পড়বে বলে তারা জানিয়েছেন।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে তারা আরও জানান, ভারতের যেসব অঞ্চলে পেঁয়াজের ফলন বেশি, এবার মৌসুমের শুরু থেকেই সেসব অঞ্চলে তীব্র তাপদাহ, খরা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেখানে উৎপাদন খানিকটা ব্যাহত হয়েছে। একইসঙ্গে অনেক অঞ্চলে গরমের কারণে ক্ষেতেই অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় দেশে পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই ভারত সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। 

/এফএস/এমএমজে/

x