সাদুল্যাপুরে ১০২ বস্তা নিম্নমানের চাল জব্দ, ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ১১:৩৪ , জুন ২৬ , ২০১৯

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিম্নমানের ১০২ বস্তা (খাদ্য বিভাগের সিলকৃত ৩০ কেজি ওজনের ভিজিডি'র বস্তা) চাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিমন মিয়া (৩০) নামে এক ব্যবসায়ীকে পাঁচ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে এ আদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নবীনেওয়াজ।
লিমন বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদ মেম্বারের ছেলে। গুদাম থেকে বস্তা কিনে চালগুলো নিজ গুদামে মজুদ রাখার কথা ভ্রাম্যমাণ আদালতে স্বীকার করেন তিনি।
এর আগে, দুপুরে গোপন খবরে অভিযান চালিয়ে বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চালের বস্তাগুলো জব্দ করে সাদুল্যাপুর থানা পুলিশ। উদ্ধার করা চালের বস্তায় খাদ্য বিভাগের সিল রয়েছে। প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি করে ১০২ বস্তায় ৩ হাজার ৬০ কেজি চাল রয়েছে।
সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরশেদুল হক বলেন, ‘গোপন খবরে পরিষদে অভিযান চালিয়ে খাদ্য বিভাগের সিল করা বস্তায় ভরা ভিজিডির ১০২ বস্তা চাল মজুদ পাওয়া যায়। এরপর বস্তাগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে চালগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদ মেম্বাররের বলে জানা যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও মো. নবীনেওয়াজ। নিম্নমানের চাল মজুদ রাখার দায়ে শহিদ মেম্বারের ছেলে লিমনকে পাঁচ দিনের কারাদণ্ড দেন বিচারক। এসময় চালগুলো নিম্নমানের হওয়ায় তা নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।’
ইউএনও মো. নবীনেওয়াজ বলেন, ‘জব্দ করা ১০২ বস্তা চাল সরকারি গুদাম থেকে উত্তোলন করা হয়নি। এছাড়া চালগুলো কোনও পরিষদের নয় বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে চালগুলো নিজের দাবি করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চালগুলো নিম্নমানের প্রমাণ পাওয়া যায়। নিম্নমানের চাল মজুদের দায়ে ব্যবসায়ীকে পাঁচ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।’

এ বিষয়ে সাদুল্যাপুর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শাহনাজ আকতার মুঠফোনে বলেন, ‘ভিজিডির আওতায় বনগ্রাম ইউনিয়নে ২৪৩ জন সুবিধাভোগী রয়েছে। সরকারি গুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের ২৪৩ বস্তা চাল উত্তোলনে চেয়ারম্যানকে ডিও লেটার দেওয়া হয়। পূর্ব সিদ্ধান্তে পরিষদ চত্বর থেকে মঙ্গলবার সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণের কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান চাল উত্তোলন ও বিতরণ করেছেন কিনা তা জানা নেই। তবে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দের চাল বিতরণ নিয়ে কোনও অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে জব্দ করা এসব চাল সম্পর্কে কিছুই জানেন না বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীন সরকার। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নের ভিজিডি সুবিধাভোগী ২৪৩ পরিবারের বরাদ্দের চাল এখনো গুদাম থেকে উত্তোলন করা হয়নি। বরাদ্দের চালের ডিও লেটার আমার পকেটেই রয়েছে।’ চালগুলো কী কারণে, কেন পরিষদে আনা হয়েছে তাও জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে চেষ্টা করেও ব্যবসায়ী শহিদ মেম্বারের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

/এআর/

x