২৮ ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

রাজশাহী প্রতিনিধি ২৩:৪১ , জুলাই ১১ , ২০১৯

রেল যোগাযোগ (ফাইল ছবি)

হলিদাগাছিতে তেলবাহী ট্রেনের ৮ বগি লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাত ১০টায় লাইনচ্যুত বগির শেষটি তুলতে সক্ষম হয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকেই সারাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজশাহীর হলিদাগাছির দিঘলকান্দি এলাকায় তেলবাহী ট্রেনের ৮টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান সংকেত ও টেলি যোগাযোগ প্রকৌশলী অসীম কুমার তালুকদার জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার দিকে শেষ বগিটি লাইনে তোলা হয়। তারপর লাইন ক্লিয়ার করতে কিছু সময় লেগেছে। এরপর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ধূমকেতু ট্রেনটি, যা বাঘা উপজেলার আড়ানি স্টেশনে অপেক্ষামান ছিল, তা রাজশাহী স্টেশনে প্রবেশ করে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের রাজশাহীর স্টেশন ম্যানেজার আবদুল করিম বলেন, বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময় বিকাল ৪টার পদ্মা এক্সপ্রেস ১২ ঘণ্টা এবং রাত ১১টা ২০ মিনিটে ধূমকেতু ট্রেন ৪ ঘণ্টা দেরিতে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, তেলবাহী ট্রেনের আটটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার সঠিক কারণ এখনও বের করা যায়নি। তবে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তারা প্রতিবেদন জমা দিলে ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা জানা যাবে।

প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন আরও বলেন, গতকাল বুধবার রাত থেকে ক্রেনের সাহায্যে লাইনচ্যুত বগিগুলোকে শূন্যে ওঠিয়ে লাইনে নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে। তার আগে ভেঙে যাওয়া রেললাইনগুলো কেটে সরিয়ে দিয়ে নতুন লাইন প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনেক স্থানে পুরোনো ও দুর্বল স্লিপার সরিয়ে নতুন স্লিপারও বসাতে হয়েছে। এতে লাইনচ্যুত তেলবাহী ট্রেনের ওয়াগনগুলোর উদ্ধার কাজে বেশি সময় লেগেছে। তারওপর বুধবার রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হয়।

ঘটনার পরই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পশ্চিম রেলের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। ঘটনার তদন্তের জন্য বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আরিফুল ইসলামকে সভাপতি করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনার পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে কমিটি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) খন্দকার শহিদুল ইসলাম বলেন, রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই এলাকাটি প্রকৌশলী আব্দুর রশিদের দায়িত্বে ছিল। তদন্ত শেষে এই দুর্ঘটনার জন্য আরও কে কে দায়ী হতে পারে তা আরও সুনির্দিষ্ট করা হবে। তখন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, রেললাইনের ওপর দিয়ে একটি নতুন রাস্তার কাজ হয়েছে। এজন্য লাইনের ওপর দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচল করেছে। লাইন কিছুটা দেবে গেছে। এরই মধ্যে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা অভিমুখী রাজশাহীর সব ট্রেন ঈশ্বরদী থেকে এবং অন্য ট্রেন নাটোরের আব্দুলপুর থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় তেলবাহী ট্রেনের আটটি বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় সিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয়। রাজশাহীর রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান বুকিং কর্মকর্তা আবদুল মমিন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সাত হাজার যাত্রীর ২৬ লাখ টাকারও বেশি টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে।

 

/এমএ/

x