রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, শিক্ষক অবরুদ্ধ

রাবি প্রতিনিধি ০২:০৮ , জুলাই ১৩ , ২০১৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রথম বর্ষের ছাত্রলীগের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগে আইন বিভাগের এক শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে ওই শিক্ষককে তার চেম্বারে অবরুদ্ধ করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা চেম্বারের বাইরে ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি বিচারের আশ্বাস দিলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তালা খুলে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মারধরের অভিযোগ আনা ছাত্রলীগ কর্মী সুপ্ত সাহা অনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের  মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী জানা গেছে। অপরদিকে অবরুদ্ধ শিক্ষক এ টি এম এনামুল জহীর আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

সুপ্ত সাহার অভিযোগ, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুপ্ত তার বান্ধবীকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরতে বের হন। ক্যাম্পাসের পুরাতন ফোকলোর চত্বরের পুকুর পাড়ে শিক্ষক এনামুল তাদেরকে ডাক দেন। এ সময় তিনি মেয়েটিকে কটুক্তি করে কথা বলেন। সুপ্ত এর প্রতিবাদ করায় শিক্ষক এনামুল তাকে কিল ঘুষি মারেন এবং চলে যেতে বলেন। পরে সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন শিরাজী ভবনের সামনে আবার তাদের পথরোধ করেন এবং সুপ্তকে মারধর করেন। এ ঘটনা বন্ধু ও বড় ভাইদের জানানোর পর তারা ওই শিক্ষকের চেম্বারে যান সুপ্তকে মারার কারণ জানতে। কিন্তু শিক্ষক এনামুল তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না বলে চেম্বার থেকে বের করে দেন।  এরই প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে তার চেম্বারে অবরুদ্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা  চেম্বারের বাইরে অবস্থান নিয়ে সুপ্ত সাহাকে মারধর ও তার বান্ধবীকে কটুক্তির প্রতিবাদে স্লোগান দিতে থাকে। ঘণ্টাখানেক পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা ঘটনাস্থলে আসেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা চেম্বারের তালা খুলে দেন।

এ বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক এনামুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আমি সুপ্তকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।

/এমপি/

x