লো ভোল্টেজে থমকে গেছে রমেক, দুর্ভোগে রোগীরা

লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর ০৭:৫৩ , জুলাই ১৩ , ২০১৯

লোডশেডিংয়ের কারণে এমআরআই মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছেবিদ্যুতের লো ভোল্টেজের কারণে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের চার কোটি মানুষের একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। একটি ছাড়া বাকি লিফটগুলো চলে না। হাজার হাজার রোগী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বিদ্যুতের কারণে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রমেকের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সুলতান আহাম্মেদ বলেন, ‘লো ভোল্টেজের কারণে এমআরআই-সহ অনেক সর্বাধুনিক মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। লিফটের অবস্থা আরও খারাপ। একটি ছাড়া বাকিগুলো চলে না। হাসপাতাল কাগজে-কলমে দেড় হাজার বেডের হলেও রোগী থাকে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার। এখানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। আমরা বারবার বলেছি, হাসপাতালের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। কিন্তু এখনও তেমন কোনও উদ্যেগ আমরা লক্ষ করছি না।’
সরেজমিন ওই হাসপাতালে দেখা গেছে, ১০টি লিফটের একটি ছাড়া বাকিগুলো চলে না। লিফটম্যানরা বলছেন বিদ্যুতের লো ভোল্টেজের কারণে লিফটগুলো চলছে না। লিফটম্যান সালাম জানান, মুমূর্ষু রোগীদের পরিবহন, জরুরি মালামাল ও অন্যান্য সামগ্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
চালু থাকা একটি মাত্র লিফটে ওঠার জন্য রোগী ও তাদের স্বজনদের হুড়াহুড়ি দেখা গেল। গাইবান্ধা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধ মনোয়ারা বেগম জানালেন, তিনি ছয়তলায় ওয়ার্ডে আছেন। এমআর করার জন্য বাইরে গিয়েছিলেন এখন ওয়ার্ডে যাওয়ার জন্য দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। একই কথা বললেন ঠাকুরগাঁও থেকে আসা জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি জানান, অসুস্থ হওয়ায় লিফট ছাড়া তার পক্ষে চারতলায় যাওয়া কোনও ভাবেই যাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। লিফটম্যান বললেন, যে লিফটটি চলছে শুধুমাত্র সেটিই লো ভোল্টেজে চলে। শুধু লিফটের কারণে শত শত রোগী ও বৃদ্ধদের হাসপাতালে আসা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।লো ভোল্টেজের কারণে লিফট বিকল
আইসিইউ এবং সিসিইউ বিভাগের চিকিৎসক ডা. মিন্টু জানান, অব্যাহত লো ভোল্টেজের কারণে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের অনেক মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়াও এসিগুলো ঠিকমতো কাজ করে না।
দেখা গেছে, কিডনি ডায়ালাইসিস বিভাগেও লো ভোল্টেজের কারণে এসি বন্ধ। বিকল্প হিসেবে সিলিং ফ্যান না থাকায় কিডনে রোগীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এ ওয়ার্ডের দুজন স্টাফ নার্স ওয়ালেদা ও মমতাজ বেগম জানান, একজন কিডনি রোগীকে ডায়ালাইসিস করতে কমপক্ষে চার ঘণ্টা সময় লাগে। এ অবস্থায় রোগীদের অবস্থা কতটা ভয়াবহ সহজেই অনুমেয়।
অন্যদিকে হাসপাতালের ডেড হাউজের ২৪টি ফ্রিজের মধ্যে মাত্র চারটি সচল আছে। বিদ্যুতের অভাবে ১৮টি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে বেশ কিছুদিন ধরে। সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি বেওয়ারিশ লাশ পচে গেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে পিডিবির বিদ্যুৎ ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জন্য আলাদা ফিডার দেওয়া হয়েছে। এই ফিডারে অন্য গ্রাহকদের কোনও সংযোগ দেওয়া নেই। তার পরেও বিদ্যুতের লো ভোল্টেজ কেন হচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি না।’

/এমএএ/

x