দাম না পেয়ে সড়কে চামড়া ফেলে গেলেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম ০০:০০ , আগস্ট ১৪ , ২০১৯

আতুরার ডিপু এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ফেলে যাওয়া চামড়া

২০০ পিস চামড়া নিয়ে চট্টগ্রামের আতুরার ডিপো এলাকায় বিক্রি করতে আসেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী বখতিয়ার। নগরীর বাকলিয়া থেকে এসব চামড়া সংগ্রহ করেন তিনি। আড়তদারদের কাছে দাম না পেয়ে চামড়াগুলো সড়কে ফেলে চলে যান বখতিয়ার।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বখতিয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিটি চামড়া ৩৫০-৪০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। কিন্তু বিক্রি করতে এসে দেখি, চামড়ার দাম একেবারে কম। আড়তদাররা ৫০ টাকার বেশি দিয়ে কিনতে রাজি নয়। ৫০ টাকা করে বিক্রি করলেও সে টাকা পরে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা। তাই বাধ্য হয়ে চামড়াগুলো সড়কে ফেলে দিয়েছি।’

শুধু বখতিয়ার নয়, তার মতো আরও অনেক চামড়া ব্যবসায়ী চামড়া সংগ্রহ করে লোকসানে পড়েছেন। তাদের অনেকে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সড়কে ফেলে গেছেন। পরে সেগুলো সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা অপসারণ করে নিয়ে যান। করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগ জানিয়েছে, শুধু আতুরার ডিপু এলাকার সড়ক থেকে তারা ৭০-৮০ হাজার চামড়া অপসারণ করেছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আতুরার ডিপো এলাকায় ব্যবসায়ীরা প্রায় ৭০-৮০ হাজার চামড়া সড়কে রেখে ফেলে যায়। খবর পেয়ে আমরা সড়ক থেকে ওই চামড়াগুলো অপসারণ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আতুরার ডিপো নয়, নগরীর আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, বাকলিয়া এসব এলাকায় দাম না পাওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সড়কে চামড়া ফেলে গেছেন। অনেক ডাস্টবিনে চামড়া পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো যেন দুর্গন্ধ না ছড়ায়, সেজন্য আমরা চামড়াগুলো অপসারণ করছি।’

আতুরার ডিপু এলাকায় ফেলে যাওয়া চামড়া

চামড়ার দামে এভাবে ধস নামার জন্য মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আড়তদারদের দায়ী করছেন। তাদের দাবি, আড়তদাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারসাজি করে তাদের নিয়ন্ত্রিত এজেন্টদের মাধ্যমে চামড়ার দর পতন করে রেখেছে। তবে আড়তদাররা জানিয়েছেন, লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা চামড়া বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি। তারা এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'এবার চট্টগ্রামে গরু, মহিষ, ছাগলসহ মোট ৭ লাখ ১০ হাজার পশু কোরবানি করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৫ লাখ গরু কোরবানি করা হয়েছে।'

এই সাত লাখ ১০ হাজার পশুর মধ্যে মাত্র ২ লাখ চামড়া এবার সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর আহমদ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর কোরবানে আমরা প্রায় পাঁচ লাখ চামড়া সংগ্রহ করি। এবার দুই লাখের মতো সংগ্রহ করা হয়েছে। নগরীর বড় গরুগুলোর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রামের কোনও চামড়া এবার সংগ্রহ করা হয়নি। গ্রাম থেকে আসা চামড়াগুলোর মধ্যে ছোট চামড়া বেশি থাকে, তাই এগুলো কেউ কেনেনি। মূলত যারা গ্রাম থেকে চামড়া নিয়ে এসেছেন, তারাই দাম না পেয়ে ফেলে দিয়ে গেছেন।’

চামড়া আপনারা কেন ক্রয় করেননি, এ প্রশ্নের তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে হঠাৎ করে লবণের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাই অনেকে এবার বেশি চামড়া সংগ্রহ করেননি।’

চামড়া শিল্পের এই পরিণতির জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর ‘অযোগ্যতা’কে দায়ী করে নূর আহমদ বলেন, ‘আমি ১৯৬৮ সন থেকে চামড়া ব্যবসা করে আসছি। আমার জীবনে আমি এ ধরনের ধস দেখিনি। কোটি কোটি টাকার চামড়া শিল্প একেবারে শেষ। চামড়া নিয়ে সরকারিভাবে কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাই আজ দেশের অন্যতম অর্থকারী এই শিল্প ধ্বংসের মুখে।’

/এমএ/

x