স্টিমারের কেবিনে স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে স্বামী আটক

বাগেরহাট প্রতিনিধি ০৯:৪৯ , আগস্ট ১৪ , ২০১৯

গ্রেফতার

বাগেরহাটে স্টিমারের কেবিনে স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পালানোর সময় ডালিম হাওলাদার (৩২) নামে এক গার্মেন্ট কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আহত সাবিনা বেগমকে (২১) উদ্ধার করা মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোরেলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ঠাকুর দাশ মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক ডালিম হাওলাদার মোরেলগঞ্জ উপজেলার কালিকাবাড়ি গ্রামের বাদশা হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, গাজীপুরে একই গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে ডালিমের সঙ্গে শেরপুর উপজেলার দড়িখাগা গ্রামের আব্দুস ছত্তার শেখের মেয়ে সাবিনার পরিচয় হয়। ডালিম তার স্ত্রী ও সন্তানের কথা গোপন করে সাবিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। পরে বিয়ে করে। গাজীপুরে তারা এক বছর সংসারও করে। সাবিনা এবার শ্বশুর বাড়িতে ঈদ করার জোর করলে ডালিম শনিবার বিকেলে তাকে নিয়ে স্টিমারে করে মোরেলগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। রবিবার দুপুরে মোরেলগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছানোর প্রায় আধাঘণ্টা আগে স্টিমারটি সন্ন্যাসী এলাকায় থাকাকালে ডালিম কেবিনের ভেতরে সাবিনাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় সাবিনার চিৎকার শুনে অন্য যাত্রীরা কেবিনের সামনে জড়ো হয়ে দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে ডালিম দরজা খুলে দৌড়ে স্টিমারের ছাদে গিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে জেলেদের সহযোগিতায় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

সাবিনা বেগম জানান, ‘ডালিম আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সে আমাকে হত্যা করার জন্যই ‘বাঙালি স্টিমারে’র কেবিন রিজার্ভ করেছিল আমি তা বুঝতে পারিনি। আমি তার দৃষ্টন্তমূলক বিচার চাই।’

মঙ্গলবার রাতে মোরেলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ঠাকুর দাশ মণ্ডল বলেন, ‘সাবিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে এমন অভিযোগে মামলা হয়েছে। ডালিমকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সাবিনাকে তার অভিভাবকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।’

 

 

 

/জেবি/

x