কেনেন পিস হিসেবে, বিক্রি বর্গফুটে!

কামাল মৃধা, নাটোর ২০:৪৬ , আগস্ট ১৪ , ২০১৯

আড়তে রাখা পশুর চামড়ানাটোরের চামড়া ক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা পিস হিসেবে কিনে বিক্রি করছেন বর্গফুট হিসেবে। তাদের কাছে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকায় খাসির ও ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায় গরুর এক পিস চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন কোরবানিদাতারা। অনেকে বিক্রি করতে না পেরে মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছেন। এসব চামড়া পিস হিসেবে কিনে তা বর্গফুট হিসেবে বিক্রি করেছেন তারা। সরকার প্রতি বর্গফুট হিসেবে চামড়ার ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও তা মানেননি ক্রেতারা। 

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকালে সরেজমিন ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

সদর উপজেলার ভাটোদাঁড়া গ্রামের মোজাহারুল ইসলাম জানান, ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকর কোরবানির গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ৭শ টাকায়।

দিঘাপতিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মজিবর রহমান খলিফা জানান, সাড়ে দশ হাজার টাকার কোরবানির খাসির চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ৩০ টাকায়।

শহরের আলাইপুর এলাকার মামুন জানান, দশ হাজার টাকার খাসির চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ১০ টাকায়।

বাগাতিপাড়া উপজেলার নূরপুর মালঞ্চি গ্রামের সেকেন্দার আলী জানান, ৫৬ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ৪শ টাকায়।

বড়াইগ্রাম উপজেলার স্কুলশিক্ষক ওহিদুর রহমান জানান, ৮৫ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ৫শ টাকায়।

নলডাঙ্গা উপজেলার পাটুল এলাকার অধিবাসী মেহেদী হাসান জানান, ৭০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ২শ টাকায়। পাশের রেজাউল করিম মাস্টার ১৭ হাজার টাকার খাসির চামড়া বিক্রি করেছেন ৫০ টাকায়।

সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া বাজার এলাকার রহিমা বেগম জানান, কোরবানির খাসির চামড়া বিক্রি করতে না পেরে তিনি মাদ্রাসায় দান করেছেন।

রফিকুল ইসলাম ও রুস্তম আলীও তাদের কোরবানির গরুর চামড়া মাদ্রাসায় দান করেছেন।

নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জানান, ফড়িয়া বা ব্যাবসায়ী যে যেভাবেই চামড়া কিনে আনুক না কেন, আড়ত ও ট্যানারি মালিকরা বর্গফুট হিসেবেই চামড়া কেনেন। বর্তমানে খাসির চামড়া ১৫-১৮ টাকা এবং গরুর চামড়া ৪৫-৪৮ টাকা বর্গফুট হিসেবে কেনা-বেচা চলছে।

বাগাতিপাড়া এলাকার চামড়া ক্রেতা আব্দুল আলী জানান, ট্যানারি মালিকেরা বিদেশে কম দাম চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ট্যানারি স্থানান্তরে অনেক অর্থ ব্যয় হওয়ায় অনেকে চামড়া কিনছেন না। এই কারণে তাদেরকেও কম দামে চামড়া কিনতে ও বিক্রি করতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার জালাল জানান, আড়তে চামড়া বিক্রি করতে গেলে অনেক কম দাম পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি অনেক চামড়ায় জখম থাকায় সেগুলো কম দাম বিক্রি করতে হয়। এ কারণে তারা কম দামে চামড়া কিনেছেন।

আব্দুল আলী ও জালালের দাবি, তারা মাঠ পর্যায়ে পিস হিসেবেই চামড়া কেনেন। তবে আড়তে বর্গফুট হিসেবে বিক্রি করেন।

নাটোর চামড়া আড়তের ব্যাপারী রাজশাহী সদর উপজেলার আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি পিস ৫০ টাকা দরে ঈদের দিন তিনি ১৩০ পিস খাসির চামড়া কিনেছিলেন। পরে বর্গফুট হিসেবে ওই চামড়ার মূল্য তিনি গড়ে ৮০ টাকা করে পেয়েছেন। ৫১ পিস গরুর চামড়া কিনেছিলেন ৬শ থেকে ৭শ টাকা পিস হিসেবে। পরে ট্যানারি মালিকদের কাছে তিনি ওই চামড়া বর্গফুট হিসেবে বিক্রি করে গড়ে ৭৫০ টাকা হিসেবে দাম পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবারের ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম ঘোষণা করেন। চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। মন্ত্রী জানান, এবার গরুর চামড়ার দাম ঢাকায় প্রতি বর্গফুট হবে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। খাসির চামড়ার দাম সারা দেশে প্রতি বর্গফুট ১৮-২০ টাকা। বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ১৩-১৫ টাকা।

ওই দিন টিপু মুনশি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কোনও বাজারেই চামড়ার দাম কমেনি। কাজেই দাম কমার কোনও প্রশ্নই আসে না।’

বৈঠকে চামড়া ব্যবসায়ীরা দেশীয় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন। এর জবাবে বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশীয় বাজারে ভালো দাম না পেলে চামড়া রফতানির বিষয়টি আমরা চিন্তা করবো।’

দিঘাপতিয়া ফজলুল উলুম বহুমুখী কওমি মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত বছর তার মাদ্রাসায় ৪৫টি গরুর চামড়া ও ৬৫টি খাসির চামড়া দান হিসেবে পেয়েছিলেন। এবার গরুর ১২৫টি এবং খাসির ২ শতাধিক চামড়া পেয়েছেন। মাদ্রাসার মহিলা শাখায় গরু-খাসি মিলিয়ে ৪০-৪৫টি চামড়া পেয়েছেন।

আরও খবর...

শনিবার থেকে কাঁচা চামড়া কিনবেন ট্যানারি মালিকরা

 

/এনআই/

x