চাঁদপুরে উদ্ধার ‘চন্দ্রবোড়া’ সাপ পাঠানো হলো চট্টগ্রামে

চাঁদপুর প্রতিনিধি ১০:৪৭ , আগস্ট ২১ , ২০১৯

চাঁদপুরে উদ্ধার ‘চন্দ্রবোড়া’ সাপ চট্টগ্রামের গবেষকদের কাছে হস্তান্তরচাঁদপুর শহরের কোরালিয়া এলাকায় একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা বিরল প্রজাতির ‘চন্দ্রবোড়া’ জাতের বিষধর সাপটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে চাঁদপুরের বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাপটি হস্তান্তর করা হয়।  

চন্দ্রবোড়ার বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে রাসেল ভাইপার। উদ্ধার করা সাপটি প্রায় তিন ফুট লম্বা।সাপটি উদ্ধার করে খাঁচায় ভরে রাখেন সবুজ

স্থানীয় রাজমিস্ত্রি সবুজ বেপারী জানান, রবিবার দুপুরে কোরালিয়া এলাকার ছৈয়াল বাড়ির পুকুর পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখেন চন্দ্রবোড়াটি কচুরিপানার ওপর বসে আছে। বিরল এই সাপটিকে তিনি কৌশলে ধরে বাড়িতে এনে খাঁচায় রাখেন। এলাকাবাসীও এটিকে দেখতে আসে। অজগরের মতো হলেও সম্পূর্ণ ভিন্নজাতের এই সাপটি স্থানীয়রা কখনোই দেখেনি। পরে এলাকার লোকজন সাপটির ছবি তুলে ফেসবুকে  ছেড়ে দিলে চট্টগ্রামের এই রিসার্চ দলটির চোখে পড়ে। তারাই মঙ্গলবার চাঁদপুরে এসে স্থানীয় প্রশাসনকে সাপটি নিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

দলের সহকারী গবেষক মিজানুর রহমান জানান, ‘চন্দ্রবোড়া সাপ অনেক বিষধর। এটি কামড় বসালে বিষ খুব দ্রুত রক্তে ছড়িয়ে পড়ে, হৃৎপিণ্ড অল্প সময়ে অকার্যকর  হয়ে পড়ে। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত  এ সাপের কামড়ে ২০ জনের মতো মানুষ মারা গেছেন। সাপটি জলে-স্থলে উভয় জায়গাতেই বাস করে। এর প্রধান খাবার ব্যাঙ, কাঁকড়া, মাছ। আবার স্থলে এরা হাঁস-মুরগি, ইঁদুর, বেজি পেলে খেয়ে ফেলে। অজগরের মতো দেখতে সাপটির রঙ ধূসর। শরীরে কালো ছোপ ছোপ দাগ। এর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে−চন্দ্রবোড়া ডিম দেয় না, বাচ্চা প্রসব করে। এক সঙ্গে ৬২-৬৩টি বাচ্চা দিয়ে থাকে।’চাঁদপুরে উদ্ধার ‘চন্দ্রবোড়া’ সাপ চট্টগ্রামের গবেষকদের কাছে হস্তান্তর

তিনি আরও জানান, ভারত, চীন,  থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে এই সাপ আছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় এবং দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় রাসেল ভাইপার সাপটির অস্তিত্ব মিললেও চাঁদপুরে এটি প্রথম।

সাপটি উদ্ধারকারী সবুজ জানান, মাসখানেক আগেও এমন একটি সাপ তাকে তেড়ে এলে তিনি সেটাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমরান হোসাইন সজীব বলেন, ‘আমার ধারণা সাপগুলো উত্তরাঞ্চলের পানির সঙ্গে মেঘনা হয়ে চাঁদপুরে চলে আসতে পারে।’

বন বিভাগের কামরুল হাসান জানান, ‘এই সাপ আমরা এই অঞ্চলে আর দেখিনি। এমন সাপ ধরা পড়ায় কোরালিয়া এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।’

চাঁদপুর সামাজিক বনায়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সাপের খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের প্রতিনিধিরা চাঁদপুরে আসেন। তাদের কাছে সাপটি হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটিতে রাখা হবে। তারা সেখানে সাপটিকে গবেষণার কাজে লাগাবেন।’ 

/এফএস/এমএমজে/

x