মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কোপায় যুবলীগ নেতারা!

আতাউর রহমান জুয়েল, ময়মনসিংহ ১০:০৮ , সেপ্টেম্বর ১২ , ২০১৯

ইলিয়াস নোমান‘এলাকায় মাদক সেবন ও ব্যবসার প্রতিবাদ করায় আমার স্বামীর ওপর হামলা করা হয়েছে। কুপিয়ে গুরুতর জখমের কারণে তার বাম হাতের কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে। এখন আমার স্বামী ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।’ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এই সব  কথা মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় দুর্বত্তদের হামলায় গুরুতর আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইলিয়াস নোমানের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার।

বাংলা ট্রিবিউনকে মাহমুদা আরও বলেন, ‘গফরগাঁওয়ের যশোরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম সুমনের নেতৃত্বে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সারোয়ার জাহান ধনু, জাকির, ওয়াহিদ, ফয়সালসহ ১৫/২০ জনের একটি গ্রুপ এলাকায় মাদক সেবন ও বেচাবিক্রি করে আসছিল। সব সময় আমার স্বামী নোমান এর  প্রতিবাদ করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় দুই সপ্তাহ আগে ইয়াবাসহ রেজাউল করিম সুমনের দুই শিষ্য মাদক ব্যবসায়ী ওয়াহিদ ও সারোয়ার জাহান ধনুর ছেলে আকিবকে পুলিশ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় সুমন ও ধনু মিয়া দোষারোপ করে নোমানকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় চার মাস আগে যশোরা এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে পল্লি বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ এবং খুঁটি দেওয়ার কথা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সারোয়ার জাহান ধনু মিয়ার লোকজন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু চার মাসেও বিদ্যুৎ সংযোগসহ খুঁটি না দেওয়ায় নোমান এ বিষয়ে ধনুর কাছে জানতে চান। এই নিয়ে দুই জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসব কারণেই আমার স্বামীর ওপর নৃশংস হামলা হয়েছে।’

মূল আসামি রেজাউল করিম সুমনসহ অন্যরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন মাহমুদা।  ইলিয়াস নোমান

উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আতাউর রহমান জানান, ‘আহত ইলিয়াস নোমান এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সব সময়  পাশে থাকেন। এছাড়া এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি। মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় এবং পল্লী বিদ্যুতের লাইন নিয়ে সমস্যায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে নোমানের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইলিয়াস নোমানের ওপর হামলাকারীরা যে দলেরই হোক তাদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।’

উল্লেখ্য,  গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইলিয়াস নোমান নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে যশরা এলাকায় যুবলীগ নেতা সারোয়ার জাহান ধনুর নেতৃত্বে ৫/৬ জন তাকে কুপিয়ে আহত করে। গুরুতর আহত নোমানকে উদ্ধার করে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। ওই দিন রাতেই ইলিয়াস নোমানের স্ত্রী মাহামুদা আক্তার বাদী হয়ে যশোরা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি রেজাউল করিম সুমন, ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা সারোয়ার জাহান ধনু মিয়াসহ ৯ জনের নামে গফরগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।

গফরগাঁও থানার ওসি অনুকূল সরকার জানান, মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি সারোয়ার জাহান ধনু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন- দুর্বৃত্তের হামলায় আহত সেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাম হাত কেটে ফেলা হলো

/এফএস/

x