খুলনায় ভুল চিকিৎসায় ক্রিকেটারের মৃত্যুর অভিযোগ

খুলনা প্রতিনিধি ১৬:০৮ , সেপ্টেম্বর ১২ , ২০১৯




মুনির হোসেন ইশতিয়াক খুলনায় ভুল চিকিৎসায় মো. মুনির হোসেন ইসতিয়াক ওরফে রিপন নামে এক ক্রিকেটারের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নিয়ে স্থানীয় খালিশপুর ক্লিনিকে ভর্তি হন রিপন। তবে ভুল চিকিৎসার কারণে তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনায় রিপনের স্বজনরা ক্লিনিকের চিকিৎসক সুজা উদ্দিনকে মারধর করেন। পরে পুলিশ কৌশিক ও কায়েস নামে দুই জনকে আটক করে।

রিপন অনূর্ধ্ব ১৯ দলের তালিকাভুক্তছিলেন। স্থানীয় কাশেম স্মৃতি স্পোর্টিং ক্লাবের হয়েও তিনি নিয়মিত খেলতেন।

রিপনের বাবা শওকত হোসেন অভিযোগ করেন, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণে খালিশপুর ক্লিনিকে ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টায় রিপনকে ভর্তি করা হয়েছিল। ৮ সেপ্টেম্বর ভোরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. সুজা উদ্দিন রিপনকে নিয়ে অন্য হাসপাতালে যেতে বলেন। তবে তার রোগের বিষয়ে জানতে ও কাগজপত্র আনতে গেলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আমাদের মৃত্যুসনদ ধরিয়ে দেয়। সনদে বলা হয়, হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে।

খালিশপুর ক্লিনিকরিপনের বাবা বলেন, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণে ক্লিনিকে নেওয়ার পর চিকিৎসক এক হাজার এমএল স্যালাইন পুশ করেন। যা মাত্র ২৪ মিনিটে শেষ হয়। এরপর রিপন উঠে হাঁটাচলা করে। কিছুক্ষণ পর রিপনের শরীর ঘামতে থাকে। তখন সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় চিকিৎসক তার দেহে একটা ইনজেকশন পুশ করেন ও অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুসনদে রিপনকে ভোর ৪টায় মৃত উল্লেখ করা হয়। বলা হয় তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। সনদে বয়স উল্লেখ করা ৩০ বছর। আবার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ বছর।

মৃত্যুসনদরিপনের খালা সুলতানা বেগম বলেন, খালিশপুর ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক অভিযোগ এসেছে। সঠিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য তাদের চিকিৎসক নেই। রিপনের ডেথ সার্টিফিকেটটিও ছিল ভুলে ভরা। যেখানে ডেথ সার্টিফিকেট ঠিকমতো লেখার মানুষ নেই, সেখানে সঠিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া কীভাবে সম্ভব?

তবে খালিশপুর ক্লিনিকের মালিক ডা. কাজী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ ওঠায় আমরা লাশের ময়নাতদন্তের কথা বলেছিলাম। এতে চিকিৎসকের ভুল নাকি অন্য সমস্যা ছিল তা পরিষ্কার হতো। তবে মৃত ব্যক্তির পরিবার তা মানেনি। তিনি দাবি করেন, ঘটনার রাতে রোগীকে নিয়ে এসে তার স্বজনরা যেভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ব্যবস্থাপত্রমৃত্যুর বিষয়ে খুলনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্যাসের সমস্যা জটিল হলে হার্ট অ্যাটাকের দিকে যেতে পারে। খালিশপুর ক্লিনিকের ঘটনাটি সম্পর্কে ওই চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন।

এদিকে খালিশপুর ক্লিনিকে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুজা উদ্দিনকে মারধর এবং ক্লিনিক থেকে ধরে নিয়ে মারপিটের ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন খুলনা জেলা শাখার বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি থেকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

/টিটি/

x