আমার ছেলে পরিস্থিতির শিকার: শোভনের বাবা

আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম ১৪:৫৭ , সেপ্টেম্বর ১৫ , ২০১৯

নূরুন্নবী চৌধুরীদুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদ্য পদচ্যুত সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তার বাবা নূরুন্নবী চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে চিনি। সে এ ধরনের কাজ করতে পারে না। আসলে আমার ছেলে আগে থেকেই বোকা, সহজ-সরল।’ রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে শোভনের অব্যাহতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শোভনের বাবা কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
শোভনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের অনেক কিছুই সাজানো মন্তব্য করে নূরুন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘তার (শোভন) বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অনেকটা অতিরঞ্জিত, সাজানো ব্যাপার।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি নিয়ে ভিসির অভিযোগ প্রসঙ্গে শোভনের বাবা বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে আসলে শোভন কিছুই জানে না। সেখানে তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেন সেখানকার পরিস্থিতি ঠিক হয়। আমার ছেলেকে নিয়ে যে আর্থিক বিষয়গুলো বলা হচ্ছে, সেটা ওর দ্বারা সম্ভব না। সে পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।’
শোভনের বাবা আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে কথা বলার সময় রাব্বানী যেহেতু একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানে শোভন উপস্থিত থাকায় হয়তো তার নামও এসেছে। কিন্তু রাব্বানী নিজেই বলেছে, শোভন কিছু জানে না।’
শোভনকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখছেন, জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘এখানে আক্ষেপের কিছুই নেই। নেত্রী ভালো মনে করেছিলেন, তাই তাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, পদে বসিয়েছিলেন। নেত্রী এখন মনে করছেন যে এদের দিয়ে আর ভালো চলবে না, তাই তাদের পদত্যাগ করতে বলেছেন।’
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও তখন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং নানা সূত্রে খবর নিয়ে একই বছরের ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি চূড়ান্ত করেন, যা ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু, ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রায় এক বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে ব্যর্থ হন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দিলে কমিটি ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলে তৎপরতা শুরু করেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এরপর ছাত্রলীগকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম এবং বিএম মোজাম্মেল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে এ বছরের ১৩ মে ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। তবে এই কমিটি নিয়েও ছিল বিস্তর অভিযোগ। ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশীদের একাংশ এই কমিটির বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচি পালন করে।
এই কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, নিজেদের অনুষ্ঠানে মূল সংগঠনের নেতাদের আমন্ত্রণ করে তাদের পরে অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত হওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কানে পৌঁছায়। এসব অভিযোগ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে দলীয় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন, যা গত ৭ সেপ্টেম্বর বাংলা ট্রিবিউনে ‘ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে শেখ হাসিনার নির্দেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এছাড়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদাবাজির একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় তাদের ওপর ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এসব ঘটনার জেরে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী বললেন-এরা ‘মনস্টার’ হয়ে গেছে, নেতারা সবাই চুপ

যুবলীগের কিছু নেতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী: এরা শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ

শোভন-রাব্বানী বাদ, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়-সা. সম্পাদক লেখক

/এআর/ এপিএইচ/এমএমজে/

x