পাবনায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

পাবনা প্রতিনিধি ২৩:৫৩ , সেপ্টেম্বর ১৫ , ২০১৯

পাবনাপাবনায় দুই দফায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, থানায়  অভিযোগ না নেওয়া, জোরপূর্বক থানার ভেতরে বিয়েসহ বেশ কিছু অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশিত পাবনা জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পাবনার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে তদন্ত কমিটি ‘সিরিজ রেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, গণমাধ্যমের প্রত্যেকটি অভিযোগ তদন্ত কমিটি আমলে নিয়ে গত তিন দিন ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। রবিবার রাতেই পুরো ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। পরবর্তী পদপেক্ষ সেখান থেকেই নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘গণমাধ্যমে বিষয়টি উঠে না এলে হয়তো এ ঘটনা আলোর মুখ দেখতো না। গণমাধ্যমের কারণেই জেলা পুলিশের শক্তিশালী তদন্ত কমিটি তা খতিয়ে দেখেছে। ঘটনার সত্যতা মেলায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাবনার এই চাঞ্চল্যকর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও থানার মধ্যে ভিকটিমের সঙ্গে এক ধর্ষকের বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে আসার পর মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের দৃষ্ঠিগোচরে আসে। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে ঘটনা পুরো তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।’

ওই কমিটির প্রধান করা হয় পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজকে। বাকিরা হলেন পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবনে মিজান ও পাবনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. একেএম আবু জাফর।

প্রসঙ্গত,  ২৯ আগস্ট রাতে পাবনা সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামের তিন সন্তানের জননী ওই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান।  এ সময় রাসেলসহ তার অপর দুই বন্ধু তাকে এক বন্ধুর বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। ঘটনার পরদিন ধর্ষণের শিকার ওই নারী স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ওরফে ঘন্টুর সরণাপন্ন হন এই ঘটনার বিচার চাইতে। ঘন্টু ও তার কয়েক বন্ধু মিলে তারই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অফিসে তাকে আটকে রেখে তিন দিন ধরে ধর্ষণ করে। সেখান থেকে ওই নারী পালিয়ে বাবার বাড়িতে গিয়ে সব খুলে বলে। ৫ সেপ্টেম্বর ওই নারীকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন রাতে ওই নারী পাবনা সদর থানাতে অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে উল্টো ধর্ষক রাসেলকে ডেকে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয়।  বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে মামলার ৫ আসামিকে পুলিশ পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মো. ফিরোজ আহমেদকে প্রধান করে এবং কোর্ট ইন্সপেক্টর ও ডিআইকে-১ সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রাথমিক অবস্থায় পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হককে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত ও উপপরিদর্শক (এসআই) একরামূল হককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে পাবনার দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

 

/এনআই/

x