লালমনিরহাটেও 'ধর্ষকের' সঙ্গে বিয়ের অভিযোগ, এসআই’কে বদলি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ২২:২৮ , সেপ্টেম্বর ১৯ , ২০১৯

single pic template-1 copy-Recovered-Recoveredপাবনার পর লালমনিরহাটেও অভিযুক্ত ধর্ষকের সঙ্গে ভিকটিমের বিয়ের অভিযোগ উঠেছে। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত প্রাইভেট শিক্ষককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। আর অভিযুক্ত ধর্ষকের সঙ্গে ওই ছাত্রীর বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। 

গত ২৫ জুলাই ওই শিক্ষার্থীকে লালমনিরহাটের একটি স্থানীয় ক্লিনিকে গর্ভপাত করানো হয়েছে বলে তার বাবা অভিযোগ করেছেন। তিনি এ ঘটনায় ১১ আগস্ট থানায় একটি অভিযোগ দেন। এরপর ২৩ আগস্ট পুলিশের উদ্যোগে শাহীনের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ে দেওয়া হয়। শাহীনের কাছে ওই শিক্ষার্থীসহ আরও কয়েকজন প্রাইভেট পড়তো। এ ব্যাপারে মেয়েটির বাবা গত ১৫ সেপ্টেমবর পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ পাঠান। এরপর পুলিশ সুপারে নির্দেশে বুধবার মামলা দায়ের করা হয়।    

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, ‘বুধবার গভীর রাতে লালমনিরহাট সদর থানায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই তিস্তা রতিপর এলাকা থেকে প্রধান আসামি শাহীন আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে পুলিশ শাহীন আলমকে গ্রেফতার করে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মন্ডলের আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে লালমনিরহাট কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলামকে বুধবারই হাতীবান্ধা সার্কেল অফিস বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় লালমনিরহাট এ সার্কেলের দায়িত্বে থাকা সহকারী পুলিশ সুপার এসএম শফিকুল ইসলামকে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এসআই মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছে প্রতিবেদন দাখিলের চেষ্টা করছি।’    

পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসআই মাইনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পরই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

অভিযুক্ত এসআই  মাইনুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাজানো বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। পাবনার ঘটনাটি দেখে ওই আদলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সাজানো হয়েছে।’                  

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাবনায় তিন সন্তানের মা এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলে সদর থানায় ডেকে এনে ভিকটিমকে অভিযুক্ত এক ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় সদর থানার ওসি ও এক এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।                  

/এমএএ/

x