ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের নাম: ইসি’র ল্যাপটপসহ একজন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ১৩:৪৪ , সেপ্টেম্বর ২০ , ২০১৯

প্রেস ব্রিফিংয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট) মোহাম্মাদ শহীদুল্লাহরোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মকর্তা মোস্তফা ফারুককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বৃহস্পতিবার তাকে আটক করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার সকালে তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। তার কাছ থেকে নির্বাচন কমিশনের একটি ল্যাপটপসহ দুটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট) মোহাম্মাদ শহীদুল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ তথ্য জানান।

মোস্তফা ফারুক ফেনী সদরের লস্কর হাট এলাকার মোহাম্মদ ইলিয়াসের ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন হামজারবাগ এলাকার মোমেনবাগ আবাসিক এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি ভোটার হালনাগাদ প্রকল্পে আউটসোর্সিং টেকনিক্যাল এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করছেন।

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার জয়নালকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জয়নাল মোস্তফা ফারুকের তথ্য দেয়। পরে বৃহস্পতিবার আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডেকে আনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা ফারুক রোহিঙ্গাদের ভোটার করার বিষয়টি স্বীকার করে। পরে তাকে আমরা গ্রেফতার করি। এরপর তার বাসায় অভিযান চালিয়ে নির্বাচন কমিশনের একটি ল্যাপটপসহ দুটি ল্যাপটপ, তিনটি ডিজিটাল সাইনিং প্যাড ও দুটি পেন ড্রাইভ উদ্ধার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ল্যাপটপ কীভাবে তার কাছে এসেছে, এর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আর কেউ জড়িত আছে কিনা বিষয়টা আমরা খতিয়ে দেখছি।’

এ সম্পর্কে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (কাউন্টার টেরোরিজম) রাজেশ বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘জয়নাল এনআইডি করতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহ করে মোস্তফা ফারুকের কাছে পাঠাতো। মোস্তফা ফারুক তাদের তথ্য এনআইডি সার্ভারে আপলোড দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরও অধিক তদন্তের জন্য আমরা মোস্তফা ফারুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করবো। আজই তাকে আদালতে তোলা হবে।’

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এবং নির্বাচন কমিশনের ল্যাটপট গায়েবের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদিনসহ তিন জনকে আটক করে পুলিশ। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে। বুধবার আদালত জয়নালকে তিন দিনের এবং অন্য দুইজনকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠান।

আরও পড়ুন- 

সাত বছরেও উদ্ধার হলো না ইসির হারিয়ে যাওয়া সেই চার ল্যাপটপ!

চট্টগ্রাম ইসি থেকে ‘হারিয়ে যাওয়া’ ল্যাপটপ দিয়েই রোহিঙ্গাদের এনআইডি হচ্ছে, সন্দেহ দুদকের

দুই বছরেই কোটিপতি ইসি’র অফিস সহায়ক জয়নাল!

 

/এফএস/

x