শাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে বেনামি শ্বেতপত্র!

শাবি প্রতিনিধি ০২:৫১ , সেপ্টেম্বর ২২ , ২০১৯

 

শাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রকাশিত শ্বেতপত্র

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়সহ মোট ৫৩টি অভিযোগ সম্বলিত একটি শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার শাবিপ্রবির শিক্ষক-কর্মকর্তাবৃন্দ’র নামে ‘শাবিপ্রবির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বিভিন্ন অপকর্মের শ্বেতপত্র’টি প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ বেনামি শ্বেতপত্রের একটি কপি বাংলা ট্রিবিউনের হাতে এসে পৌঁছেছে।

শ্বেতপত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, ছাত্রলীগের একটি পক্ষকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, উপাচার্যের বিমানযোগে যাতায়াত, জোবাইক সেবা ও স্বাস্থ্যবিমা চালুর নামে আর্থিক অনিয়ম, আইসিভিসি সম্মেলন করে ৪০ লাখ টাকার অপচয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।
তবে ২৪ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্রটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একটি মহলের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেছেন ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে এটি একটি হীন ও হাস্যকর প্রচেষ্টা। নৈতিকভাবে দুর্বল ও পদলিপ্সু অসাধু কিছু ব্যক্তি এমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। ‘উদ্দেশ্য প্রণোদিত’, ঢালাও এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

বেনামি এ শ্বেতপত্রে উপাচার্যের বিরুদ্ধে শাবি বিদ্বেষী মনোভাব, শাবির গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগে বঞ্চিতকরা, শিক্ষক নিয়োগ ও আপগ্রেডেশনে পক্ষপাতিত্ব, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় না থাকা কুমিল্লা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক প্রীতির কারণে অনৈতিকভাবে নিয়োগ দেওয়া, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নিজ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া, সভা পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনমতো সিদ্ধান্ত সংযোজন ও বিয়োজন করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

সিন্ডিকেট সদস্যরা এমন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে এতে দাবি করা হয়। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- ৩.৮৪ সিজিপিএ রেজাল্টধারী প্রার্থীকে না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের মেয়েকে (৩.৫০ রেজাল্টধারী) অনৈতিকভাবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তবে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় উপাচার্য সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন, এমন অভিযোগের ভিন্নমত জানিয়েছেন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেটে চেয়ার হিসেবে উপাচার্য থাকেন। তবে সিন্ডিকেটে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তা সর্বসম্মতিক্রমে আলোচনা সাপেক্ষেই গৃহীত হয়। আর যদি কারো কোনও বিষয়ে দ্বিমত থাকে তাহলে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিতে পারেন। সব সিন্ডিকেট সদস্যই যথেষ্ট ম্যাচিউরড, এখানে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।’

শ্বেতপত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখনও শ্বেতপত্রটি পড়িনি, তাই সার্বিক বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।’

শ্বেতপত্রে উল্লেখিত অন্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- তিন বছর আগে পাশ হওয়া ২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অক্ষমতা, রেজিস্ট্রারকে সিন্ডিকেট সভায় দাঁড় করিয়ে অপমান করা, নিয়োগবোর্ডে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের তাচ্ছিল্য করা, জামায়াত তোষণ, জিইবি বিভাগের শিক্ষার্থী প্রতীকের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দানকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে অনিয়ম, অভিযোগের দ্বিতীয় কিস্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শ্বেতপত্রটির শেষে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর উপাচার্য নিয়োগ না দিয়ে শাবির সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এর শেষের দিকে লেখা আছে, ‘আমাদের দাবি অভ্যন্তরীণ ভিসি, উই ওয়ান্ট একাডেমিক ভিসি।’

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন। আমি নিয়ম বহির্ভূত কোনও কাজ করিনি। শিক্ষক নিয়োগে বিভাগীয় প্রধান, ডিন ও এক্সপার্টদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড থাকে, সেখানে অনিয়মের সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রমোশন ও আপগ্রেডেশন বোর্ডে আমি যোগ্যদের মূল্যায়ন করেছি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল নিজ স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। তাদের নৈতিক ভিত দুর্বল, তাই তারা বেনামে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে।’

/টিটি/

x