এখন দুর্নীতিবাজরাই দেশের মালিক হয়ে গেছে: ফজলে হোসেন বাদশা

রাজশাহী প্রতিনিধি ০১:০০ , অক্টোবর ২০ , ২০১৯

রাজশাহীতে ওয়ার্কার্স পার্টির সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, সংবিধানে লেখা আছে বাংলাদেশের মালিক জনগণ। কিন্তু এখন দুর্নীতিবাজরাই দেশের মালিক হয়ে গেছে। ক্ষমতার মালিক দুর্নীতিবাজরা। তারা যা চান, তাই হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কালোটাকার মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযান আমরা রাজশাহীতেও দেখতে চাই।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার বড় মসজিদের সামনে পার্টির এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবুর পরিচালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য সাব্বা আলী খান কলিন্স, পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য নুর আহমেদ বকুল, জেলার সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, নারী মুক্তি সংসদের রাজশাহী জেলা সভাপতি অধ্যাপক তসলিমা খাতুন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা, মহানগর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, এন্তাজুল হক বাবু, সাদরুল ইসলাম, আবু সাঈদ ও ফেরদৌস জামিল টুটুল।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, রাজশাহীতে যারা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে প্রশাসন এখনও তাদের পাহারা দিয়ে রেখেছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এমন অবস্থা চলতে পারে না।

বাদশা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। এ বিষয়ের পক্ষে থাকায় আমাদের নামে মিথ্যা প্রচার করা হয়। কিন্তু আমরা ভয় পাই না। যতই কুৎসা রটনা করা হোক না কেন, তা সব সময় মিথ্যা। আর মিথ্যা বালুর বাঁধ, যা সামান্য বাতাসেই ভেঙে যায়। আমরা এমন রাজনীতি করি না যে আমাদের পকেটে কোটি টাকা থাকে। আর আমি কখনও কাউকে ভয় পাই না। রাজশাহীর মানুষের জন্য আমার বাকি জীবন। ন্যায় এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম চলবেই।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার আগে ২২টি পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যারা এখানকার টাকা পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিত। তাদেরকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তারপর ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ অর্জিত হলো। কিন্তু অর্থপাচার থামেনি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, যে পরিমাণ টাকার বাজেট হয় সেই পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যায়। যারা এখনও দেশের টাকা পাচার করে তারা নব্য রাজাকার। এসব নব্য রাজাকারদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, উত্তরের মানুষ দেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমরা আম দিয়েছি, ধান দিয়েছি, মাছ দিয়েছি। কিন্তু উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছি। এসব নিয়ে কেউ কথা বলে না। আমি বার বার পার্লামেন্টে কথা বলেছি। রাজশাহীতে যেন শিল্পায়ন ঘটে তার জন্য পণ্য পরিবহনে যমুনা নদীতে আলাদা রেলসেতু নির্মাণের জন্য কথা বলেছি। আজকে সুখবর দিতে চাই, যমুনা নদীতে রেলসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেটা বাস্তবায়ন হতে চলেছে। এখন শিল্পায়ন ঘটবে।

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তুলনা করতে গিয়ে যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মিনুর কঠোর সমালোচনা করেন ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, মিজানুর রহমান মিনু মেয়র থাকাকালে জেএমবিকে প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা দিতেন। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার আগে বাংলা ভাই এ কথা জানিয়ে গিয়েছে। আজ সেই মিনু প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটূক্তি করেন। তিনি মেয়র থাকাকালে দুর্নীতি করেছেন। ফ্রিডম পার্টি, রাজাকার, জঙ্গিবাদকে সহায়তা করেছেন। জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।

 

/টিএন/

x