বাসের ধাক্কায় ইজিবাইক চালকসহ ৭ জন নিহত

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ১৬:৪০ , নভেম্বর ০৮ , ২০১৯

সংঘর্ষে দুমড়ে যায় ইজিবাইকপঞ্চগড় সদরের মাগুরমারী এলাকায় বাসের ধাক্কায় একটি ইজিবাইকের চালকসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বেলা দেড়টার দিকে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভজনপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জিলানী এ তথ্য জানান।

নিহতদের লাশনিহতরা হলেন—পঞ্চগড় সদর উপজেলার চেকরমারি গ্রামের ইজিবাইক চালক রফিক (২৮), সদর উপজেলার বদিনাজোত গ্রামের আকবর আলী (৭২), তার স্ত্রী নুরিমা (৬৫), তেঁতুলিয়া উপজেলার মাঝিপাড়া গ্রামের লাবু ইসলাম (২৫), তার স্ত্রী নববধূ মুক্তি (১৯), সদর উপজেলার রায়পাড়া গ্রামের মাকুদ হোসেন (৪৩) ও সাহেবজোত গ্রামের নারগিস বানু (৪২)। এদের মধ্যে লাবু ইসলাম ও মুক্তির মাত্র ৪৫ দিন আগে বিয়ে হয়েছে।

দুমড়ে যাওয়া ইজিবাইকপ্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে কাজী পরিবহনের একটি বাস তেঁতুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বাসটির। এতে ইজিবাইকটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই মারা যান পাঁচ জন, হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন এবং হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়। পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস লাশগুলো উদ্ধার করেছে।

মাগুরমারী চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা ও দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম জানান, একটি ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি বাম পাশ থেকে ডান দিকে মোড় নেয়। আর তখনই বাসটি ইজিবাইকটিকে চাপা দেয়। 

দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে শান্ত করতে পুলিশপঞ্চগড় ফয়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিরঞ্জন সরকার জানান, খবর পেয়ে তিনিসহ ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যান। তিনি সেখান থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করেন; এদের মধ্যে দু’জন নারী ও তিনজন পুরুষ। 

দুমড়ে যাওয়া ইজিবাইক পুুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘বাস ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে ইজিবাইক চালকসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন।’ 

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, মিনিবাসটিকে পুলিশ জব্দ করেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। দুর্ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 

দুর্ঘটনার পর সড়কে এলাকাবাসীএ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন। ঘটনার আড়াই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

 

 

/এমএএ/আইএ/এমওএফ/

x