বরগুনার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ছুটছে মানুষ

সুমন সিকদার, বরগুনা ২০:০০ , নভেম্বর ০৯ , ২০১৯

আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ (ছবি– প্রতিনিধি)

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র প্রভাবে সকাল থেকে বৃষ্টি থাকলেও প্রথমদিকে আশ্রয়কেন্দ্রমুখী করানো যায়নি বরগুনার উপকূলবর্তী এলাকাগুলোর মানুষজনকে। তবে শেষমেশ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিপিপি, রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রচারণায় তারা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর দিকে যাচ্ছেন।

বরগুনা সদর উপজেলার পোটকাখালী, কেওড়াবুনিয়া, বুড়িরচর, নলটোনা, এম বালিয়াতলী, ডালভাঙা, নলী, মাঝেরচর ও গুলিশাখালী এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন। তারা ঘর তালাবদ্ধ করে পরিবার-পরিজন ও গবাদি পশু নিয়ে ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে কেউ কেউ এখনও যেতে চাইছেন না আশ্রয়কেন্দ্রে।

আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন এক নারী (ছবি– প্রতিনিধি)

বরগুনা সদর উপজেলার পোটকাখালী এলাকার বাসিন্দা কামাল বলেন, ‘পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, সিডরের মতো অবস্থা হবে। থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা সিডরের সময়ও হয়েছিল। তখন আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে অনেক ভূল করেছিলাম। এবার আর সেই ভুল করতে চাই না। সন্ধ্যার আগেই আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে উঠতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে প্রায় ৫ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। তবে আশেপাশে কোনও সাইক্লোন শেল্টার নেই। সাইক্লোন শেল্টার দূরে হওয়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে যেতে চাইছে না।’

এখানকার আরেক বাসিন্দা বিপুল সওজাল বলেন, ‘মোরা সবসময়ই পানিতে ভাসি। এডা আর নতুন কী? দুর্যোগ আইলেও ঘরের মধ্যে থাকমু, না আইলেও ঘরের মধ্যে থাকমু। তয় মাইয়া পোলা কয়ডারে সন্ধ্যার আগে আগে সাইক্লোন শেল্টারে দিয়া আমু।’

আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন এক বৃদ্ধ (ছবি– প্রতিনিধি)

সদর উপজেলার নলী এলাকার সাহিদা নামের এক গৃহবধূ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে শুনেছি। মাইকিংও করা হয়েছে। কিন্তু সাইক্লোন শেল্টারে যে যাবো, যাওয়ার মতো সেই অবস্থা সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে নেই। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে নারী ও শিশুদের জন্য কোনও ধরনের সুব্যবস্থাই নেই।’

উন্নয়ন সংগঠন ‘জাগো নারী’র স্বেচ্ছাসেবক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আমরা উন্নয়ন সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সাইক্লোন শেল্টারে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। সবাই সাইক্লোন শেল্টারে গেলে নিরাপদে থাকতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাইক্লোন শেল্টারের অপর্যাপ্ততা ও কোনও ধরনের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় অনেকে সাইক্লোন শেল্টারে যেতে অনিহা প্রকাশ করেন শুরুতে। তবে শেষ মুহূর্তে তারা সাইক্লোন শেল্টারে যাচ্ছেন।’

মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে মাইকিং (ছবি– প্রতিনিধি)

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যে যেভাবে যেখানেই থাকুক না কেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার জন্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রস্তুত রয়েছে ৫০৯টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৪২টি মেডিক্যাল টিম, ৮টি জরুরি সেবাকেন্দ্র এবং সিপিপি, রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক।’

 

/এমএ/

x