ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ সাতক্ষীরার আশ্রয়কেন্দ্রে ১ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ০১:৩৭ , নভেম্বর ১০ , ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে সাতক্ষীরায় ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে আতঙ্ক বাড়ছে সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের। এ অবস্থায় জেলার চার উপজেলায় ২৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ। ইতোমধ্যে-শ্যামনগর উপজেলার এবং আশাশুনি উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যেন তিল ধরার ঠাঁই নেই। অনেকে আবার ভিটে ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চাচ্ছেন না। তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর করে আনা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ভারতে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে সাগর দ্বীপে ও সুন্দরবনে আঘাত হানার পর এর গতিবেগ কমে গেছে। এটার অগ্রভাগ ইতোমধ্যে দেশের সুন্দরবন উপকূলে প্রবেশ করেছে। কেন্দ্রে প্রবেশ করবে ভোর নাগাদ। রাত ১২টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় ৬৪.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, এখনও পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ১০নং বিপদ সংকেত চলছে। বাতাসের আদ্রতা ৯৬ শতাংশ। এটা ভোররাতে সাতক্ষীরাসহ বাংলাদেশের সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে গতিবেগ যেমন বলা হচ্ছিল সেটা থাকছে না। গতি অনেক কমে গেছে।’
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার চার উপজেলায় ২৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে গঠিত টিম উপকূলবর্তী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা শ্যামনগরে অবস্থান করছে। হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক সবসময় খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া গাবুরা এলাকার আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমরা এখানে এসে উঠেছি। এখনও কোনও খাবার-দাবার পাইনি।
গাবুরা ইউনিয়নের সখিন বেগম বলেন, ভিটেমাটি ছেড়ে কোথাও যেতে চাই না। যতোই ঝড় হোক আমাদের যা হোক না কেন বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবো না। বাড়ি থেকে গেলে ফিরে এসে আর কিছু পাবো না।
পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান এড. আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা আছি বাঁধ নিয়ে আতঙ্কে। রাত যতো বাড়ছে নদীর পানি ততো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে মানুষ। কেউ এখন আর বাড়িতে নেই। অধিকাংশই এখন সাইক্লোন শেল্টারে।’
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমার ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। অধিকাংশ মানুষ এখন সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থান করছেন। সেনাবাহিনী আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।’
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস.এস মোস্তফা কামাল ইতোমধ্যে জেলার ২৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এছাড়া দুর্যোগ কবলিতদের সহায়তায় ৩১০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৭ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পর্যাপ্ত ওষুধপত্র মজুদ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে দুর্যোগ পূর্ববর্তী, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী তিন স্তরের প্রশিক্ষিত ২২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ ৮৫টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া শিশুদের জন্য ১ লাখ টাকা ও গবাদি পশুর জন্য আরও ১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালীনি, মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও কাশিমাড়িসহ আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা ও শ্রীউলা প্রত্যন্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালে থাকা নৌযানগুলোকে উপকূলবর্তী নিরাপদস্থলে আনা হয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার দুটি বিভাগের আওতায় ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

/এআর/

x