দুর্ঘটনার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন সুমন

ওয়ালিউল মুক্তা ০৯:১০ , জুলাই ১৭ , ২০১৭

অস্ত্রোপচারের পর সুমনবেশ অগোচরেই ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরেছিলেন অর্থহীন ব্যান্ডের গায়ক সুমন। গত ১৭ জুন দেশটিতে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন তিনি। খবরটি প্রকাশ হলে তার ভক্তদের মাঝে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। এরমধ্যেই দেশের ফেরেন বেজবাবা হিসেবে খ্যাত দেশের অন্যতম এ গিটারবাদক।
এবার চেকআপের জন্য রবিবার সিঙ্গাপুরের গেছেন তিনি। রাত ১০টা ১৭ মিনিটের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন তিনি।
বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন এ গায়ক। প্লেনে উঠার ঠিক আগমুহূর্তে নিজের চিকিৎসা ও সিঙ্গাপুর যাওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন তিনি। বলেন, ‘মাথা ও পেট চেকআপের জন্য আমি সিঙ্গাপুর যাচ্ছি। ব্যাংককে চিকিৎসা চললেও সিঙ্গাপুরের সাধারণত চেকআপ ও রিপোর্টগুলো করা হয়। আসলে বেশ কিছু চামড়া ও মাংশপেশী আমার শরীরে স্থানান্তর করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার পর শরীরের অন্য অংশ থেকে এগুলো নিয়ে আমার মুখে ও মাথায় বসানো হয়। এই অস্ত্রোপচারের পরবর্তী অবস্থা জানাতেই সিঙ্গাপুর যাচ্ছি। প্রয়োজনে সেখানে কিছু চিকিৎসাও হবে।’ 

গত ১৭ জুন ব্যাংকক শহরের সকুমভিতে পেছন থেকে একটি মাইক্রোবাস সুমনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। তিনি তখন রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তার মুখমণ্ডল। মুখের বিভিন্ন অংশ ফেটে ও থেতলে যায়। বিশেষ করে তার চোয়াল ভেঙে যায় ও কানের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত তাকে পার্শ্ববর্তী স্যামিতিভেজ সুকুমভিত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ১১ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার হয় সুমনের শরীরে।

নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে সুমন আরও বলেন, ‘১ মাস পর ব্যাংকক যাব। তারপর জানা যাবে, আহত অংশে আর কোনও অস্ত্রোচারের প্রয়োজন আছে কিনা!’

সুমন জানান, তার অবস্থা এখন ভালো। আরও একমাস সময় লাগবে সুস্থ হতে।হাসপাতালের বিছানায় সুমন
উল্লেখ্য, সুমন মূলত ক্যানসারের রোগী। ২০১২ সালের দিকে তার মেরুদণ্ডে প্রথম ক্যানসার হয়েছিল। এরপর মস্তিষ্ক, গলা, পাকস্থলী আর কিডনিতেও ছড়িয়ে যায়। সর্বশেষ পাকস্থলীতে মারাত্মক সংক্রমিত হওয়ায় চিকিৎসকরা সেটি শরীর থেকে বাদ দিয়েছেন। ব্যাংককে গিয়েছিলেন চিকিৎসার কাজেই। দুর্ঘটনার দিনও তার শরীরের ছোট একটা অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

এ সম্পর্কিত সংবাদ: ব্যাংককে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে সুমন

/এম/

x