স্মরণে হুমায়ুন ফরীদি ‘আজও সেই ট্রেডমার্ক হাসির শব্দ শুনছি’

বিনোদন ডেস্ক ১৮:৩২ , ফেব্রুয়ারি ১৩ , ২০১৮

কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি। ১৯৫২ সালের ২৯ মে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা ২০১২ সালের এই বসন্ত দিনে (১৩ ফেব্রুয়ারি) না ফেরার দেশে চলে যান। তাকে স্মরণ করে নিজের ফেসবুক দেয়ালে লিখেছেন দুই বাংলার অন্যতম অভিনেত্রী জয়া আহসান। যা বাংলা ট্রিবিউন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-একসঙ্গে জয়া আহসান ও হুমায়ুন ফরীদি

দু’দিন ধরেই ভাবছিলাম তার সম্পর্কে কিছু লিখবো। মনের অখণ্ড অনুভূতিগুলো জড়ো করবো। কিন্তু পারলাম না। সকাল থেকেই বার বার কিপ্যাডের উপর অত্যাচার চলছে। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেল, এখনও গুছিয়ে লিখবার সাহস করতে পারলাম না। শুধু বার বার মনে হচ্ছে, হুমায়ুন ফরীদি ছয় বছর ধরে আমাদের সঙ্গে নেই?
জ্ঞানের ভাণ্ডার নিয়ে যিনি বিরাজ করতেন আমাদের চারপাশে, তার জ্ঞান ছয় বছর ধরে আমরা স্পর্শ করছি না! প্রকৃতির নিয়মে মানুষ চলে যায়। চলে যাবেই। কিন্তু অমরত্ব পান ক’জন? আমার মনে হয়, হুমায়ুন ফরীদি সেই গুটিকয়েক ক্ষণজন্মাদের একজন। তার দেহাবসান হলেও জীবনাবসান হয়নি। তার জিয়নকাঠি ততোদিন জ্বলবে, যতোদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাংলাদেশে মঞ্চ থাকবে, নাটক থাকবে, চলচ্চিত্র থাকবে।
একজন অভিনয়শিল্পী সব মাধ্যমে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করতে পারেন না। সবার সে ক্ষমতা নেই। সীমাবদ্ধতা থাকাটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে হুমায়ুন ফরীদি পেরেছিলেন। কী মঞ্চে, কী টিভি নাটকে, কী চলচ্চিত্রে- একটা সময় ছিল তার নামে নাটক চলতো, চলচ্চিত্র চলতো।
এ কারণেই আমরা যারা অভিনয় করি তাদের আমি দুটি ভাগে ভাগ করতে চাই: সৌভাগ্যবান আর দুর্ভাগা। আমার মনে হয় যারা হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে অভিনয় করবার সুযোগ পেয়েছেন, তারা সবচাইতে সৌভাগ্যবান অভিনয়শিল্পী। আমি সেই ভাগ্যবানদের একজন। এমন মহীরুহ যখন পাশে থাকতেন, নিজেকে তুচ্ছ মনে হতো। প্রতি মুহূর্তে ভাবতাম- আহা, কত কিছুই জানি না। পারি না। মানি না।
বড় শিল্পী হতে হলে যে বড় মানুষ হতে হয়, হুমায়ুন ফরীদি সম্পর্কে যত জেনেছি, ততো বেশি অনুধাবন করেছি।
একটা গল্প শুনেছিলাম। কোনও এক শীতকালে ফরীদি ভাই অনেক রাতে নিজের গাড়ি করে ফিরছিলেন। হঠাৎ বিজয় সরণি মোড়ে তিনি গাড়ি থামালেন। দেখলেন একজন বৃদ্ধ ঠান্ডায় কাঁপছেন। পরনে তার লুঙ্গি ছাড়া কিছুই নেই। ফরীদি ভাই সে সময় নিজের কোট আর শার্ট খুলে ঐ বৃদ্ধকে পরিয়ে দিয়ে আসলেন। ফরীদি ভাই বাড়ি ফিরলেন খালি গায়ে। এরকম আরও অসংখ্য ঘটনা আছে। স্মৃতি কথা আছে, যা এখন আমরা সবাই বলছি।
ফরীদি ভাই, আপনি কখনও নায়ক হতে চাননি। হতে চেয়েছিলেন অভিনেতা। কিন্তু দেখুন, আজ এতোদিন পরও আপনি আমাদের কাছে, সাধারণ মানুষের কাছে নায়ক হয়েই আছেন।
এমন নায়ক ক’জন হতে পারে? অনেক অনেক ভালোবাসা, দোয়া আপনার জন্য। ওপারে নিশ্চয়ই ভালো আছেন। আমি আজও আপনার সেই ট্রেডমার্ক হাসির শব্দ শুনছি!
এভাবেই ভালো থাকবেন, সবসময়।

/এমএম/

x