সংগীত পরিচালক নাভেদের গল্প

জনি হক ১৯:৩১ , অক্টোবর ০৯ , ২০১৯

নাভেদ পারভেজ/ ছবি: নাঈম হোসাইন তানজিরশহরের বুকে সুরের জাল বুনে সময় কাটান নাভেদ পারভেজ। অথচ চাইলে আমেরিকায় দিব্যি আলিশান আমেজে থাকতে পারতেন তিনি। কিন্তু নিত্যনতুন সুর সৃষ্টির নেশা তাকে রেখে দিয়েছে কাজীপাড়ায়। এখানেই তার বাসা। স্টুডিও। মেট্রো রেলের কাজ চলতে থাকায় নাভেদের কাছে যেতে ভীষণ ঝক্কি পোহাতে হয়। তবুও কণ্ঠশিল্পীরা ঠিকই তাকে সময় দিচ্ছেন। রেকর্ডিংয়ে হাজির হচ্ছেন। এর কারণ একটাই, অল্প সময়ে বেশকিছু শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন এই তরুণ।
এখন খাওয়া-ঘুমের ঠিক নেই নাভেদের। এতই ব্যস্ত! স্টুডিওতে থাকলে তার মনে হয় অন্য জগতে আছেন। তবে ২০১৪ সাল থেকে ক্যারিয়ারের শুরুতে তাকে ঠিকই ঘুরতে হয়েছে। মেধার প্রমাণ দিয়ে ব্যস্ততাকে মুঠোয় আনতে পেরেছেন তিনি। নাটক ও চলচ্চিত্রের গান আর জিঙ্গেলে নিয়মিত কাজ করছেন। ‘কিস্তিমাত’, ‘মুসাফির’, ‘অস্তিত্ব’, ‘যদি একদিন’সহ অনেক ছবির গান বানিয়েছেন তিনি।
নাভেদ পারভেজ/ ছবি: নাঈম হোসাইন তানজিরনাটক-চলচ্চিত্রের আবহ সংগীতে বেশ সময় দিচ্ছেন নাভেদ। তবে নিজেকে এখনও সফল মনে করেন না তিনি। তার অদ্ভুত উত্তর, ‘ইউটিউবে গানের শিরোনামের পাশে গায়ক-গায়িকা আর নির্মাতার নাম থাকে। আমার নামও যখন থেকে থাকবে মনে করবো কিছু হলেও অর্জন করেছি। আমরা অনেকেই সফলতা পেলে ওখানেই ফুল স্টপ বসিয়ে দেই। অথচ সফলতা পাওয়ার পর কমা বসানো উচিত যাতে আরও সফলতা আসে জীবনে।’
সুরের সাতসাগর ঢেলে দিয়ে যাচ্ছেন নাভেদ। শ্রোতাদের মোহময় সুরের ভুবনে নিয়ে যেতে পারাতেই তার যত আনন্দ। সুরের মূর্ছনায় তিনি মোহাবিষ্ট করে রাখতে চান সংগীতপিপাসুদের।
সামনে নাভেদের সুর-সংগীতে যেসব কাজ আসবে সেই তালিকায় উল্লেখযোগ্য– কণা, কর্নিয়া, জুয়েল মোর্শেদ, লুইপা, স্বপ্নীল সজীব ও তামান্না প্রমির একক, আসিফ আকবরের দুটি গান, জায়েদ রিজওয়ানের ওয়েব সিরিজ ‘আঘাত’-এর টাইটেল, রায়হান রাফির ‘পরান’ ও ওয়ালিদ আহমেদের ‘লিভ ফর লাইফ’ ছবির একাধিক গান।
নাভেদ পারভেজের সুর-সংগীতে এ বছর জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘ফেরাতে পারিনি’ (রেহান রসুল), ‘রোজ বেলাশেষে’ (মাহতিম শাকিব), ‘প্রেমের বাকি গল্প সাজাই’ (এপি শুভ), ‘দিল আমার খুশিতে ড্যাং ড্যাং করে’ (অয়ন চাকলাদার), ‘আমি পারবো না তোমার হতে’ (তাহসান, কোনাল) প্রভৃতি।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক কাজও করছেন নাভেদ। ফ্লিন্ট জে’র ‘রুলা হো গ্যায়া’ বের হবে এ বছরেই। বলিউডের ‘সুরজ ডুবা হ্যায়’ গানে মিউজিক প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি।  
নাভেদ এখন নাটকের গানে বেশি মনোযোগী। তার কথায়, ‘নাটকের গানই এখন ট্রেন্ডিং। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ ভাইয়ের উৎসাহে নাটকে আবহসংগীতকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারছি। এখন অনেক নির্মাতা আবহসংগীতের জন্য আলাদাভাবে কম্পোজারদের কাজ দিচ্ছেন। সুতরাং নতুন একটি দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে।’
নাভেদের কোনও মিউজিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। তার পরিবারের কারও মধ্যে সংগীতের আবহ নেই। তিনি বলেন, ‘অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন, আমি আমেরিকায় কোনও মিউজিক স্কুলে পড়াশোনা করেছি কিনা। আসল ঘটনা হলো, মিউজিকে আমার কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। ইউটিউবে কম্পোজিশনের টিউটোরিয়াল শিখতাম। এভাবেই আমার সুরের বিদ্যা নেওয়া।’
শুরুতে কাঠখড় পোড়ালেও নাভেদ বিশ্বাস করেন, ভালো কাজ আর পরিশ্রম করলে একদিন সুফল আসবেই। তার মন্তব্য, ‘এখন অডিও শিল্পে লিয়াজোঁ ফলপ্রসূ হয় না। নির্মাতারা এখন ভালো গান চায়। ফেসবুক ও ইউটিউব সব সংগীতশিল্পীর জন্য মেধা প্রদর্শনের উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। অথচ এখনও অনেক সংগীতশিল্পী মনে করেন, অডিও শিল্পে লিয়াজোঁ ছাড়া চলা যায় না। এটা হতাশার।’
নাভেদের দর্শন কিছুটা গুরুগম্ভীর মনে হলেও মানুষ হিসেবে তিনি বেশ মজার। একটা উদাহরণ দিলেই বুঝতে পারবেন- এক মেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কাশফুল কোথায় পাওয়া যাবে? উত্তরে তিনি ডেস্কটপ ওয়ালপেপার ইনবক্স করে দিলেন!
দিল আমার খুশিতে ড্যাং ড্যাং করে:

/এমএম/

x