এই পুরস্কার গ্রহণ করা সম্ভব নয়: মালয়েশিয়া থেকে মোশাররফ করিম

বিনোদন রিপোর্ট ১৯:০৫ , নভেম্বর ০৯ , ২০১৯

মোশাররফ করিম২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কমলা রকেট’ ছবির জন্য ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কৌতুক চরিত্র’ বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন দেশের অন্যতম অভিনেতা মোশাররফ করিম। ৭ নভেম্বর এই ঘোষণা আসে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
মূলত এমন ঘোষণার পর থেকে গেল দুদিনে ঝড় বয়ে গেল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সবার একই প্রশ্ন, মোশাররফ করিমের মতো বহুমাত্রিক অভিনেতাকে কেন ‘কৌতুক অভিনেতা’ হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হবে। আবার কেউ বলছেন, ওই ছবিতে মোশাররফ করিমের চরিত্রটি বেশ সিরিয়াস, কোনোভাবেই সেটি কমেডি ক্যারেক্টার নয়। আবার কেউ বলছেন, জুরিবোর্ডের কাছে ছবির পরিচালক-প্রযোজক যেভাবে পুরস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পেশ করেছেন, সেভাবেই বিবেচনা করা হয়েছে। এখানে জুরিবোর্ড সদস্যদের কিছু করার নেই।
এসব আলাপের বিপরীতে গেল দুদিন একেবারেই চুপ ছিলেন মোশাররফ করিম। পারিবারিক সফরে তিনি মালয়েশিয়ায় থাকায় মুঠোফোনেও পাওয়া যাচ্ছিলো না। তবে সব আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি মুখ খোলেন। বাংলা ট্রিবিউন বরাবর একটি লিখিত বক্তব্য পাঠান। যেটি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজেও শেয়ার করেন। যাতে স্পষ্টভাবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করা সম্ভব নয়।’   
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ‘কৌতুক অভিনেতা’ বিষয়ে পরিষ্কার করেন। বলেন, ‘‘কৌতুকপূর্ণ বা কমেডি চরিত্র আমার কাছে অন্যসব চরিত্রের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ‘কমলা রকেট’ চলচ্চিত্রে আমি যে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছি সেটি কোনোভাবেই কমেডি বা কৌতুক চরিত্র নয়। যারা ছবিটি দেখেছেন তারাও নিশ্চয়ই উপলব্ধি করেছেন আমার অভিনীত ‘মফিজুর’ চরিত্রটি কোনও কৌতুক চরিত্র নয়। এটি প্রধান চরিত্রগুলোর একটি।’’
এমন ব্যাখ্যা দিয়ে মোশাররফ করিম জুরিবোর্ড সদস্যদের কাছে অনুরোধ করেন এই বলে, ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কৌতুক চরিত্রে- আমার জন্য বরাদ্দ করা পুরস্কারটি প্রত্যাহার করে নিলে ভালো হয়। না হলে আমার পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করা সম্ভব নয়।’
শেষের দিকে মোশাররফ করিম সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমি ভালোবেসে আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই। ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সবার কাছে আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া চাই। একই সঙ্গে যারা পুরস্কার পেয়েছেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই। এই মুহূর্তে আমি ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে অবস্থান করছি। তাই লিখিতভাবে সবাইকে জানানো হলো। আশা করছি পরিস্থিতিটি বুঝতে পেরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
এদিকে ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‌‘গহীন বালুচর’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য একই বিভাগে পুরস্কার পাচ্ছেন দেশের আরেক ভার্সেটাইল অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। তার বিষয়টি নিয়েও প্রতিবাদ ওঠে ভক্ত-সমালোচকদের পক্ষ থেকে। তবে এ বিষয়ে বাবুর বক্তব্য এমন, ‌‌‘আমি জাতীয় স্বীকৃতিকে সম্মান করি। শিল্পী হিসেবে এটা আমার প্রাপ্তি। যদিও আমার চরিত্রটি কমেডি ছিল না। মোশাররফ করিমের চরিত্রটিও কমেডি না। এরপর থেকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্ববান হবেন সংশ্লিষ্টরা, সেটাই প্রত্যাশা করি।’
২০১৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা
আজীবন সম্মাননা: এটিএম শামসুজ্জামান ও সালমা বেগম সুজাতা
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র: ঢাকা অ্যাটাক (কায়সার আহমেদ ও সানী সানোয়ার)
শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র: বিশ্ব আঙিনায় অমর একুশে (বাংলাদেশ টেলিভিশন)
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক: বদরুল আনাম সৌদ (গহীন বালুচর)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা প্রধান চরিত্র: শাকিব খান (সত্তা) ও আরিফিন শুভ (ঢাকা অ্যাটাক)
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী প্রধান চরিত্র: নুসরাত ইমরোজ তিশা (হালদা)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পার্শ্ব-চরিত্র: মো. শাহাদাৎ হোসেন (গহীন বালুচর)
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব-চরিত্র: সুবর্ণা মুস্তাফা (গহীন বালুচর) ও রুনা খান (হালদা)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা খল-চরিত্র: জাহিদ হাসান (হালদা)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কৌতুক চরিত্র: এম ফজলুর রহমান বাবু (গহীন বালুচর)
শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী: নাইমুর রহমান আপন (ছিটকিনি)
শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার: অনন্য সামায়েল (আঁখি ও তার বন্ধুরা)
শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক: এম ফরিদ আহমেদ হাজরা (তুমি রবে নীরবে)
শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক: ইভান শাহরিয়ার সোহাগ, (ধ্যাততেরিকি)
শ্রেষ্ঠ গায়ক: মাহফুজ আনাম জেমস (তোর প্রেমেতে অন্ধ, চলচ্চিত্র: সত্তা)
শ্রেষ্ঠ গায়িকা: মমতাজ বেগম (গান: না জানি কোন অপরাধে, চলচ্চিত্র: সত্তা)
শ্রেষ্ঠ গীতিকার: সেজুল হোসেন (গান: না জানি কোন অপরাধে, চলচ্চিত্র: সত্তা)
শ্রেষ্ঠ সুরকার: শুভাশীষ মজুমদার বাপ্পা (গান: না জানি কোন অপরাধে, চলচ্চিত্র: সত্তা)
শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার: আজাদ বুলবুল (হালদা)
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার: তৌকীর আহমেদ (হালদা)
শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা: বদরুল আনাম সৌদ (গহীন বালুচর)
শ্রেষ্ঠ সম্পাদক: মো. কালাম (ঢাকা অ্যাটাক)
শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক: উত্তম কুমার গুহ (গহীন বালুচর)
শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক: কমল চন্দ্র দাস (গহীন বালুচর)
শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক: রিপন নাথ (ঢাকা অ্যাটাক)
শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা: রিটা হোসেন (তুমি রবে নীরবে)
শ্রেষ্ঠ মেকআপ আর্টিস্ট: মো. জাভেদ মিয়া (ঢাকা অ্যাটাক)
২০১৮ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা
আজীবন সম্মাননা: অভিনেতা প্রবীর মিত্র ও এম এ আলমগীর
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র: পুত্র (চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর)
শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র: গল্প সংক্ষেপ (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট)
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক: মোস্তাফিজুর রহমান মানিক
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা প্রধান চরিত্র: ফেরদৌস আহমেদ (পুত্র) ও সাদিক মো. সাইমন (জান্নাত)
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী প্রধান চরিত্র: জয়া আহসান (দেবী)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পার্শ্ব-চরিত্র: আলীরাজ (জান্নাত)
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব-চরিত্র: সুচরিতা (মেঘকন্যা)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা খল চরিত্র: সাদেক বাচ্চু (একটি সিনেমার গল্প)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কৌতুক চরিত্র: মোশাররফ করিম (কমলা রকেট) ও আফজাল শরিফ (পবিত্র ভালোবাসা)
শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী: ফাহিম মুহতাসিম লাজিম (পুত্র)
শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার: মাহমুদুর রহমান (মাটির প্রজার দেশে)
শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক: ইমন সাহা (জান্নাত)
শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক: মাসুম বাবুল (একটি সিনেমার গল্প)
শ্রেষ্ঠ গায়ক: নাইমুল ইসলাম রাতুল (গান: যদি দুঃখ ছুঁয়ে, চলচ্চিত্র: পুত্র)
শ্রেষ্ঠ গায়িকা: সাবিনা ইয়াসমিন (গান: ভুলে মান অভিমান, চলচ্চিত্র: পুত্র) ও আঁখি আলমগীর (গান: গল্প কথার ঐ, চলচ্চিত্র: একটি সিনেমার গল্প)
শ্রেষ্ঠ গীতিকার: কবির বকুল (গান: যদি এভাবেই ভালোবাসা, চলচ্চিত্র: নায়ক) ও জুলফিকার রাসেল (গান: যদি দুঃখ ছুঁয়ে দেখো, চলচ্চিত্র: পুত্র)
শ্রেষ্ঠ সুরকার: রুনা লায়লা (গান: গল্প কথার ঐ, চলচ্চিত্র: একটি সিনেমার গল্প)
শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার: সুদীপ্ত সাঈদ খান (জান্নাত)
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার: সাইফুল ইসলাম মান্নু (পুত্র)
শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা: এস. এম. হারুন-অর-রশীদ (পুত্র)
শ্রেষ্ঠ সম্পাদক: তারিক হোসেন বিদ্যুৎ (পুত্র)
শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক: উত্তম কুমার গুহ (একটি সিনেমার গল্প)
শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক: জেড এইচ মিন্টু (পোস্ট মাস্টার ৭১)
শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক: আজম বাবু (পুত্র)
শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা: সাদিয়া শবনম শানতু (পুত্র)
শ্রেষ্ঠ মেকআপ আর্টিস্ট: ফরহাদ রেজা মিলন (দেবী)।

/এমএম/এমওএফ/

x