Vision  ad on bangla Tribune

কেবল বাঙালি সম্প্রদায় নয়, গোটা যুক্তরাজ্যই রয়েছে শঙ্কায়

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২২:৪২ , জুন ১৯ , ২০১৭

মুসলিম জঙ্গি পরিচয়ে যুক্তরাজ্যে সংঘটিত ধারাবাহিক জঙ্গিবাদী হামলার পর এবার হামলার শিকার হলেন খোদ মুসলমানরাই।স্থানীয় সময় রবিবার দিনগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে  যুক্তরাজ্যের ফিনসবারি পার্কে মসজিদ থেকে তারাবির নামাজ শেষে বের হয়ে আসা মুসলিমটের টার্গেট করা হয়।সে সময়  একটি ভ্যান ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ মুসল্লিদের ধাক্কা দেয়। ওই মুসল্লিদের অনেকে তারাবির নামাজ শেষে বের হচ্ছিলেন। ওই ঘটনায় ১ জন নিহত হন।লন্ডনের মসজিদে হামলা

 

 

ঘটনাস্থল ফিনসবারি এলাকা থেকে ৪৮ বছর বয়সী একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখনও হামলাকারীর সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে লন্ডন-প্রবাসী সাংবাদিক বুলবুল হাসান বলছেন, হামলাকারীর সংখ্যা তিনজন হতে পারে।

বুলবুল আহসান থাকেন পূর্ব লন্ডনে। মুসলিমদের ওপর হামলায় ব্রিটেনের বাঙালি কমিউনিটির শঙ্কা বেড়েছে কিনা; বাংলা ট্রিবিউনের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাঙালিরা দুই ধরনের ভীতির মধ্যে থাকেন। প্রথমত সম্প্রদায়গত মুসলমান পরিচয়ের কারণে। দ্বিতীয়ত বর্ণগতভাবে কালো হওয়ার কারণে। বাঙালিদের বসবাস মূলত পূর্ব লন্ডনেই। সেখানে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হওয়ার কারণে ভীতি জেঁকে বসতে পারে না। তবে পূর্ব লন্ডনের বাইরেও যেতে হয় তাদের। সেক্ষেত্রে তারা ঝুঁকিটি বোধ করতে থাকে।

বুলবুল জানান, ব্রিটেনে বাঙালি মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ইবাদত-স্থল ইস্ট লন্ডন মসজিদে বোমাতঙ্ক বিরাজ করছে। ফোন করে সেখানে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে কেবল যে মুসলমানরা ভীতিতে রয়েছে, এমনটা মনে করছেন না ওই প্রবাসী সাংবাদিক।

নির্বাচনকালিন ৩ মাসে তিনটি জঙ্গি হামলার শিকার হয় যুক্তরাজ্য।২২ মার্চ একই কায়দায় ব্রিটিশ পালামেন্টর বাইরে হামলাকারী খালিদ মাসুদ ওয়েস্টমিন্সটার ব্রিজে পদচারীদের গাড়ি চাপা দেয়। পরে পার্লামেন্টের নিরাপত্তারক্ষীর ওপর ছুরি হামলা চালান। ওই ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ নিহত হয়েছিলেন ৫ জন । পরের দুইটি হামলা হয় ১২ দিনের ব্যবধানে। ২২ মে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ম্যানচেস্টারে আক্রান্ত হয় মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী আরিয়ানা গ্র্যান্ডের কনসার্ট। হামলায় হামলাকারীসহ ২৩ জন নিহত এবং ১১৬ জন আহত হন। ১২ দিনের ব্যবধানে ৩ জুন রাত ১০টা ৮ মিনিটেলন্ডন ব্রিজে একটি গাড়ি কয়েকজন পথচারীকে চাপা দেয়। গাড়িটি পরে বোরো মার্কেটে যায়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা সেখানে বেশ কয়েকজন মানুষকে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় ১০ জন নিহত হন।

ওই হামলাগুলোর সঙ্গে আজকের মসজিদের হামলাকে মিলিয়ে তিনি বলেন, বিদ্বেষপ্রসূত হামলার (হেইট ক্রাইম) ভীতিতে রয়েছে গোটা যুক্তরাজ্য। আজকের পাল্টা হামলার পর কেবল বাংলাদেশের মুসলমানরা নয়, বিদ্বেষপ্রসূত হামলার ভীতিতে রয়েছে গোটা ব্রিটেনের মানুষ।

/বিএ/

 

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x