মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সন্নিকটে বিমসটেক দেশগুলো, বাংলাদেশের নজর ‘ব্লু ইকোনমি’তে

আশীষ বিশ্বাস, কলকাতা ১৭:২০ , আগস্ট ১২ , ২০১৭

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভস ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) সদস্য দেশগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড এরিয়া, সংক্ষেপে এফটিএ) চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। বিমসটেক এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সম্মেলনে ‘ব্লু ইকোনমি’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ওই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মধ্যে নিজেদের সমৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে।

বিমসটেক বৈঠক

নেপালের কাঠমুণ্ডুতে দুই দিনব্যাপী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিমসটেক এর বঙ্গোপসাগর ইনিশিয়েটিভের আওতায় এই সম্মেলনে একত্রিত হয়েছিলেন তারা। প্রায় তিন বছরেরও বেশি সময় পর বিমসটেকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

বিমসটেকের সাত সদস্য দেশ বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ভুটান ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাণিজ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জ্বালানি আমদানি রফতানি, ট্রেন যোগাযোগের কানেক্টিভিটি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বিনিময়, বিদ্যুৎ খাতে গ্রিড কানেক্টিভিটি, বাণিজ্য ও  বিনিয়োগে সহযোগিতা বৃদ্ধি, পণ্য ও সেবার অবাধ প্রবাহ, পর্যটনখাতের উন্নয়নের ব্যাপারে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের উপর প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর এবং জনগণের জীবিকার উপর যে হুমকি বৃদ্ধি পাচ্ছে তার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্থানীয়, জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে একে মোকাবেলা করতে সম্মত হন।

বিমসটেক দেশগুলো ‘ব্লু ইকোনমি’ ধারণার প্রয়োগ ঘটাতে শুরু করেছে। এই আর্থনীতির বিকাশ ঘটানো গেলে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলো সমুদ্রের তলায় লুকিয়ে থাকা সম্পদগুলোকে উপকূলীয় বাণিজ্যের আওতায় নিতে পারবে। বাংলাদেশ বরাবরই বিমসটেক-এর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে। বৈঠকে ঢাকার কর্তকর্তাদের তরফ থেকে ‘ব্লু ইকোনমি’ এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।

বিমসটেকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে কাঠমাণ্ডুতে নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারা সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বিমসটেক সাতটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৭ সালে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের জোট ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (বিমসটেক) গঠিত হয়।  ব্যাংকক ঘোষণার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড এই উদ্যোগ নেয়; পরে মায়ানমার, নেপাল ও ভুটান যোগ দেয়। সহযোগিতার ক্ষেত্রও বেড়ে ১৪ সদস্যে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এটির প্রধান কার্যালয় স্থাপিত হয়। 

গত অক্টোবরে, বিমসটেকের নেতৃবৃন্দ বিশ্বের পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্র রাশিয়া, চীন, ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্র প্রধানের সাথে আলোচনায় অংশ নেন। পশ্চিম ভারতের পর্যটনকেন্দ্র গোয়াতে আয়োজিত সেই দুই দিনের সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং জঙ্গি সন্ত্রাসবাদ দমনের উপর গুরুত্বআরোপ করেন।

/বিএ/

 

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x