বিতর্কিত প্রধান কর্মকর্তাকে মিয়ানমার থেকে সরিয়ে নিচ্ছে জাতিসংঘ

বিদেশ ডেস্ক ০৯:৫২ , অক্টোবর ১২ , ২০১৭

মিয়ানমারে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রেনেতা লোক ডেসালিয়েনকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি অক্টোবরের পর আর মিয়ানমারে থাকছেন না রেনেতা, এজন্য তাকে জাতিসংঘ সদর দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছে। বিবিসির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে মিয়ানমারের এই জাতিসংঘ প্রধানের রোহিঙ্গা সংকট ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টার প্রমাণ হাজির করা হয়। ওই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিতর্কিত ভূমিকাই রেনেতাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ। তবে জাতিসংঘ এই দাবি অস্বীকার করে বলছে, রেনেতাকে অন্যত্র স্থানান্তরের সঙ্গে তার কর্মকাণ্ডের কোনও সম্পর্ক নাই।
মিয়ানমারে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রেনেতা লক

বিবিসির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে উঠে আসে রোহিঙ্গা সংকটে রেনেতা লোক ডেসালিয়েনের বিতর্কিত ভূমিকার কথা। মিয়ানমারে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার সূত্রকে উদ্ধৃত করে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, রোহিঙ্গা অধ্যূষিত এলাকায় যেখানে নির্যাতন-নিপীড়ন হয়েছে, মানবাধিকার কর্মীদের সেখানে যেতে দিতেন না তিনি। এমনকি জাতিসংঘের মিয়ানমার কার্যালয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনও কথা বলতেও বারণ করেছিলেন রেনেতা। শরণার্থীদের অধিকারের বিষয় মিয়ানমার সরকারের কাছে উত্থাপনেও তিনি বাধা দিয়েছেন।

বিবিসির বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে উঠে আসা বিতর্কিত ভূমিকার কারণেই রেনেতাকে নিউ ইয়র্কে সংস্থাটির সদর দফতরে ডাকা হয়েছে। ইয়াঙ্গুনের কূটনীতিক ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর বরাতে বৃহস্পতিবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেসালিয়েনের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তটি মূলত তার মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই নেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগেই জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছিলেন, ডেসালিয়েনের উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে তার। তবে বিবিসির দাবি, এখন সেই পরিস্থিতি নেই। 

রেনেতাকে সদর দফতরে ডাকার কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘ নিজেও জানিয়েছে,  অক্টোবরের শেষদিকেই ফিরে যেতে পারবেন ডেসালিয়েন। তাকে দায়িত্ব থেকে বদলি করা হবে। তবে এটা তার কোনও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে নয়। মিয়ানমারের জাতিসংঘ দফতর থেকে জানানো হয়, ডেসালিয়েনের চলে যাওয়াটা সংস্থার নিয়মিত কার্যক্রম। নতুন কেউ আসার প্রক্রিয়া হিসেবেই এটি করা হয়েছে। তবে তার জায়গায় কে দায়িত্ব নেবেন সেটা এখনও নিশ্চিত নয়।

গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন ও গণহত্যার মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঢল নামে বাংলাদেশে। প্রথম ১৯ দিনেই চার লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায়। এরপর এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৪০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এছাড়া, এর আগে বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে আসা আরও চার লাখ রোহিঙ্গাও বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এর মধ্যে গত বছরের অক্টোবরের সহিংসতায় পালিয়ে আসে ৮৭ হাজারের মতো রোহিঙ্গা। সবমিলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ৯ লাখে পৌঁছেছে।

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x