ট্রুডোর নারীবাদ সংক্রান্ত বোঝাপড়ায় স্ত্রী যেভাবে প্রেরণা যুগিয়েছিলেন

বিদেশ ডেস্ক ১৯:৫৮ , অক্টোবর ১২ , ২০১৭

ছেলে শিশুদেরকে মেয়ে শিশুদের মতো করেই নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বড় করা প্রয়োজন বলে মনে করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। বুধবার (১১ অক্টোবর) মেরি ক্লেয়ার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি জানিয়েছেন, তার এই মনোভঙ্গির নেপথ্যে রয়েছে স্ত্রী সোফি গ্রেগোইরের প্রেরণা। উল্লেখ্য, ৪৫ বছর বয়সী ট্রুডো সবসময়ই জোর দিয়ে নিজের নারীবাদী পরিচয়কে সামনে নিয়ে আসেন।
ট্রুডো আর সোফিয়া

২০১৫ সালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সমসংখ্যক নারী ও পুরুষবিশিষ্ট মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন জাস্টিন ট্রুডো।  নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, মেয়ে এলা গ্রেসকে নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বড় করতে হবে কেবল তাই নিয়েই ভাবিত ছিলেন তিনি। তবে স্ত্রী সোফি তাকে আলোড়িত করেন। তাকে মনে করিয়ে দেন, পুত্র জেভিয়ার ও হেড্রিয়েনকেও একইরকম করে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে গড়ে তুলতে হবে।

জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষ্যে নিবন্ধটি লিখেছেন ট্রুডো। এর কয়েক মাস আগে নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক পোস্টে ট্রুডোর স্ত্রী সোফি গ্রেগোইরে একইভাবে পুরুষদের নারীবাদী হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। লৈঙ্গিক সমতার পক্ষে সোচ্চার পুরুষ ও কিশোরদের প্রসঙ্গ জোরালোভাবে সামনে এনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনে নারীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ট্রুডো ও সোফিট্রুডো মনে করেন, নারীবাদের শিক্ষা লৈঙ্গিকভাবে পুরুষ পরিচয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে ন্যায়পরায়ণতা ও সমানানুভূতির বোধ তৈরি করবে যা পুরুষ আধিপত্যের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে তা সহায়ক হবে। পুরুষাধিপত্যের ধারণাকে বাজে ধারণা আখ্যা দেন তিনি। ট্রুডো লিখেছেন, ‘আমি তাদের আত্মবিশ্বাসী ও নারীবাদী হিসেবে দেখতে চাই, যারা সত্যের পক্ষে দাঁড়াবে এবং নিজেদের আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে চিনতে পারবে।’  

নিবন্ধে ট্রুডো আরও লিখেছেন, ‘যখন মেয়ে শিশু ও নারীরা ছেলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে তখন তা হবে নারী-পুরুষের সামগ্রিক অর্জন - এবং সেটিকে বাস্তবে পরিণত করার দায়িত্ব নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার। আমাদের সন্তানদের (লৈঙ্গিক পরিচয়ে যারা পুরুষ) পুরুষ আধিপত্যের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার সামর্থ্য ও দায় রয়েছে।’

কেবল নারী ও পুরুষকে সমান মনে করার নামই নারীবাদ নয়, ট্রুডো মনে করেন পৃথিবী বৈষম্যমুক্ত হলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষ সব মানুষ আরও বেশি করে মুক্ত হবে।

ট্রুডো ও সোফি-২গত তিন দশকে কানাডায় প্রায় ৪ হাজার আদিবাসী নারী নিখোঁজ হয়েছেন কিংবা তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। কারাগারে থাকা আদিবাসী নারীর সংখ্যা বেড়েছে। কানাডায় শিশু সুরক্ষাজনিত খরচ অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। বেতন বৈষম্য বজায় থাকায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ র‍্যাংকিংয়ে ৩৫ স্থান পেয়েছে দেশটি।

এ বছর অবশ্য ট্রুডোর সরকার সুইডেনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিদেশি সহায়তার ক্ষেত্রে নারীবাদী নীতি গ্রহণ করেছে। তবে ক্ষমতায় আসার পর দুই বছর হয়ে গেলেও কানাডীয় নারীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে ট্রুডোর লৈঙ্গিক সমতার ঘোষণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনও সফলতা আসেনি। ঘোষণা আর বাস্তবের এই ফারাকের কারণে তার সরকার সমালোচিত হয়েছে। অবশ্য ট্রুডোর সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত খাতগুলোতে বেতনে সমতা নিশ্চিতের জন্য আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার করেছে। তবে ২০১৮ নাগাদ তা করা হচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে তারা।

ট্রুডো ও সোফি-৩
ট্রুডোর স্ত্রী যখন নারী দিবস উপলক্ষ্যে লিঙ্গ-বৈষম্যবিরোধী পুরুষদের সামনে আনার কথা বলেছিলেন, তখন নিন্দুকেরা লিখেছিলেন, “যদি আপনার স্বামী সত্যিকারের একজন নারীবাদী হতেন এবং আপনার বক্তব্য অনুযায়ী তিনি যদি ‘অন্যদের সামনে কথা বলতে ভয় না পেতেন’ তিনি ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের নারী বিদ্বেষের নিন্দা জানাতেন। এখন পর্যন্ত তিনি কেবল মুখেই নারীবাদী এবং এক্ষেত্রে একজন যোদ্ধা হিসেবে আমি তার কথা ভাবতে পারি না।”

 

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x