ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমের বিকল্প প্রস্তাব সৌদি আরবের!

বিদেশ ডেস্ক ২৩:১১ , ডিসেম্বর ০৬ , ২০১৭

পূর্ব জেরুজালেম নয় বরং আবু দিস নামের একটি এলাকাকে ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ রাজধানী হিসেবে দেখতে চায় সৌদি আরব। গত নভেম্বরে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের রিয়াদ সফরকালে তাকে এমন প্রস্তাব দেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এ বিষয়ে অবস্থান জানাতে ফিলিস্তিনি নেতাকে দুই মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

সৌদি আরবের পরিকল্পনায় ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা না রেখে এবং জেরুজালেমকে রাজধানীর স্বীকৃতি না দিয়ে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা আছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, এ প্রস্তাব মূলত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার অংশবিশেষ।

মাহমুদ আব্বাস ও সৌদি যুবরাজের কথোপকথন শুনেছেন এমন এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, সৌদি আরব আব্বাসকে এমন একটি পরিকল্পনা দিয়েছে যা কোনও ফিলিস্তিনি নেতা গ্রহণ করতে পারেন না। তবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ, সৌদি সরকার এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ওই পরিকল্পনার খবর অস্বীকার করা হয়েছে।

এ প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। ওই প্রস্তাবের জবাবে ইংরেজিতে একটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছে ফিলিস্তিন সমর্থকরা। হ্যাশট্যাগটি হচ্ছে #JerusalemIsTheCapitalofPalestine

সৌদি আরবের প্রস্তাবে গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরের কিছু অংশে সীমিত ফিলিস্তিনি সার্বভৌমত্ব, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ফেরার অধিকার না রাখা, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা না করা এবং পশ্চিম তীরের বেশিরভাগ ইহুদি বসতি অক্ষুণ্ন রাখার কথা বলা হয়েছে।

পশ্চিম তীরের জ্যেষ্ঠ হামাস নেতা হাসান ইউসেফ বলেন, যদি ফিলিস্তিনের নেতৃত্ব এই প্রস্তাবের কোনও একটিও গ্রহণ করেন তাহলে মানুষ তাদের এখানে থাকতে দেবে না।

ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে সৌদি আরবের প্রস্তাবিত আবু দিস শহরটি পূর্ব জেরুজালেমের কাছাকাছি অবস্থিত।

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখেই সৌদি আরবের এ প্রস্তাব সামনে এলো। যুক্তরাষ্ট্রের ওই পদক্ষেপ ঠেকাতে ইসলামি সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে তুরস্ক। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা নিজেদের ইসরায়েলি দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করবে না।

ইসরায়েলে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত ইমানুয়েল গিয়াউফ্রেট বলেছেন, আমাদের দূতাবাস তেল আবিবেই বহাল থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করবে না।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেছেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়া হিতে বিপরীত হবে।

উল্লেখ্য, পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখতে চায় ফিলিস্তিন। আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও শহরটিকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে মেনে নেয়নি। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

/এমপি/

x