প্রতিরোধের আগুনে উত্তাল 'পৃথিবীর বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগার'

বিদেশ ডেস্ক ০৮:১৮ , ডিসেম্বর ০৭ , ২০১৭

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার ঘটনায় প্রথম প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়। বুধবার ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই রাস্তায় নেমে আসে উপত্যকার বিপন্ন মানুষেরা। রাজপথে নেমে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। প্রতিরোধে আগুনে ফুঁসছে 'পৃথিবীর বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগারের জনতা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট আর মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পর্যবেক্ষণের ব্রিটিশ সংস্থা মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার রাত থেকেই এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের সমর্থনে যেন সবাই অংশ নিতে পারে সেজন্য বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গাজা উপত্যকার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত শত শত ফিলিস্তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে করে ওই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। গাজা শহরের মূল কেন্দ্রেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। জাতীয় পতাকা ও ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের ছবি নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন ফিলিস্তিনিরা।

এর আগে বুধবার জেরুজালেমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান। তবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করার হুমকি দিয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত মানবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। 

ইহুদি-খ্রিস্টান ও মুসলিম; তিন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পবিত্র ধর্মীয় স্থান জেরুজালেম। তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে পিছু হটলেও ট্রাম্প আসলে শহরটিকে ইসরায়েলি রাজধানী ঘোষণা করার কথা জানান।ইসরায়েল সব সময়ই জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে, পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেম ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে বলে দেশটির নেতারা বলে আসছেন। এই অবস্থায় ট্রাম্পের এ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।

/এমএইচ/বিএ/

x