ফুটবল ম্যাচ দেখলেন সৌদি নারীরা

বিদেশ ডেস্ক ০৯:৩৫ , জানুয়ারি ১৩ , ২০১৮





গাড়ি চালানোর অনুমতি, এক দশকের নিষেধাজ্ঞার পর সিনেমা হলে সিনেমা দেখার পর এবার প্রথমবারের মতো মাঠে উপস্থিত হয়ে একটি ফুটবল ম্যাচ দেখেছেন সৌদি আরবের নারীরা। আর একে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ঘোষিত ‘মধ্যপন্থি ইসলামের’ দিকে ধাবিত হওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ফুটবল ম্যাচ দেখলেন সৌদি নারীরা -সংগৃহীত ছবি

শুক্রবার জেদ্দা শহরের ওই স্টেডিয়ামের পারিবারিক গেট ব্যবহার করে আলাদভাবে বসে খেলা দেখার সুযোগ পান সৌদি নারীরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির ঐতিহ্যবাহী কালো বোরখা পরিহিত নারীরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হলে তাদের স্বাগত জানান, নারী অভ্যর্থনাকারীরা। তারা মাঠে খেলা দেখার সময়ে উল্লাস করে সমর্থন জানান স্থানীয় দলকে।
শুক্রবার নারীদের খেলা দেখার সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হ্যাশট্যাগ খোলা হলে দুই ঘন্টায় তা শেয়ার হয় দশহাজার বার।
লামিয়া খালেদ নাসের নামে ৩২ বছর বয়সী জেদ্দার এক নারী ফুটবল সমর্থক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে আমরা একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগুচ্ছি। আমি গর্বিত যে এই বিশাল পরিবর্তনের আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শী।

ফুটবল ম্যাচ দেখলেন সৌদি নারীরা





জেদ্দার আরেক বাসিন্দা রুয়েদা আলী কাশেম বলেন, এটা রাজ্যের চলমান মৌলিক পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক দিন। বলেন, আমি গর্বিত আর এই উন্নতিতে প্রচন্ড খুশি।
সৌদি সরকার গত সপ্তাহে ঘোষণা করে, নারীরা শনিবার দ্বিতীয় এবং বৃহস্পতিবার তৃতীয় খেলাটিও দেখার সযোগ পাবেন।


শুক্রবারের খেলার পর ফুটবল ক্লাবের তরফ থেকে টুইটারে নারীদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়েছে। কেউ কেউ আবার ঐতিহ্যবাহী বোরকার রঙকে দলীয় রঙ হিসেবেও প্রস্তাব করেছেন।


সৌদি আরবে আধুনিকায়নের পথে অগ্রগতির এই পদক্ষেপের দিনে শুক্রবার দেশটিতে প্রথমবারের মতো নারী ক্রেতাদের জন্য একটি গাড়ির শো রুম উদ্বোধন করা হয়। চলতি বছরের জুনে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে শোরুম থেকে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামতে পারবেন নারীরা। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয় সৌদি সরকার। এই বছরের জুনে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে।
সৌদি আরবের রাজ পরিবার আর ধর্মীয় রীতি ইসলামের সুন্নী মতের অনুসারী। এই মতাদর্শ ওয়াহিবজম নামেও পরিচিত। এতে কঠোর ইসলামি আচরণ ও পোশাক বাধ্যতামুলক। দেশটির অভিভাবকত্ব রীতি অনুযায়ী নারীদের ঘরের বাইরে বেরোতে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে যেতে হয়। বেশিরভাগ রেস্তোরায় আলাদা দুটি ভাগ থাকে। একটিতে শুধু পুরুষ আরেকটিতে শুধু নারীদের নিয়ে পরিবারের পুরষ সদস্যরা।
তবে সৌদি আরবে এখনও এমন অনেক বিষয় আছে যা পরিবাবের অনুমতি ছাড়া করতে পারেন না। তার মধ্যে রয়েছে, পাসপোর্টের আবেদন, বাইরে ভ্রমণ, বিয়ে, ব্যাংক একাউন্ট খোলা, ব্যবসা শুরু, কারাগার ত্যাগ।
এক দশকের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার পর গত বছরের ডিসেম্বরে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার অনুমতি পান সৌদি নারীরা। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম কমিক শো।
গত বছর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজন করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সামলান। তেলের মজুদ শেষ হয়ে আসায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি আধুনিক শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ওই শহরে বিশ্বের আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষণশীল ইসলাম থেকে বেরিয়ে মধ্যপন্থি ইসলামের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। এরপরই নারীদের জন্য থাকা নানা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে থাকে।

/জেজে/

x