রোহিঙ্গা হত্যায় সেনাবাহিনীর স্বীকারোক্তি 'ইতিবাচক পদক্ষেপ': সু চি

বিদেশ ডেস্ক ১৮:১৮ , জানুয়ারি ১৩ , ২০১৮

বিচারবহির্ভূতভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দশ সদস্যকে হত্যার কথা স্বীকার করে দেওয়া মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নজিরবিহীন স্বীকারোক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চি। শুক্রবার জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি একে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলে অ্যাখ্যা দেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইটস অব মিয়ানমার এ খবর জানিয়েছে।

অং সান সু চি

কয়েক মাস ধরে অস্বীকার করে আসলেও বুধবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্যের বিরুদ্ধে রাখাইনের ইনদিন গ্রামে রোহিঙ্গা জঙ্গি সন্দেহে ১০ জনকে হত্যায় সহযোগিতা করার প্রমাণ মিলেছে। হত্যার পর নিহতদের একটি গণকবরে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

গত আগস্ট মাস থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার স্বীকার হয়ে ৬ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পশ্চিম রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এমন ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের নিন্দা না করায় শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সুচিকে দোষারোপ করে।

শুক্রবার জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সু চি ইনদিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে সেনাবাহিনীর স্বীকারোক্তিকে ‘তার দেশের নেওয়া নতুন পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন। সুচি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত কোনও দেশে আইনের শাসন বজায় রাখা ওই দেশেরই দায়িত্ব। আমরা দায়িত্বশীল হওয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা ইতিবাচক লক্ষণ।’

গত ৫০ বছর ধরে মিয়ানমার শাসন করা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়ংকর অতীত ইতিহাস রয়েছে। ২০১৬ সালে সু চি বেসামরিক সরকার গঠনের পর পর্যবেক্ষকরা আশা করেছিলেন বিদ্রোহী ও বিরোধীদের প্রতি সেনাবাহিনীর ভয়ংকর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে। তবে রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্ঠুর সামরিক নির্যাতনের পর সেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। রাখাইনের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে এখনও সংবাদমাধ্যম, ত্রাণ সংস্থা ও জাতিসংঘের তদন্তকারীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

সু চি স্বাগত জানালেও আগস্ট মাস থেকে আরও বিস্তৃত আকারে নৃশংসতার নিরপেক্ষ প্রমাণ আছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি ইনদিন হত্যাকাণ্ডকে সংক্ষেপে ‘সিন্ধুর বিন্দু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসাও সেনাবাহিনীর এই স্বীকারোক্তিকে ‘মনপ্রাণে’ স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, ‘এতে ধর্ষণ, হত্যা ও গ্রামবাসীদের কৌশলগত অত্যাচারের মাধ্যমে ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হয়।’

টুইটারে প্রকাশ করা এক ‍বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘গণকবরে পাওয়া নিহত ১০ রোহিঙ্গা নির্দোষ বেসামরিক লোক ছিল। তারা আরসার সদস্যও ছিল না। তাদের সঙ্গে আরসার কোনও সম্পর্কও ছিল না।’ 

জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানামার সেনাবাহিনীকে ‘জাতিগত নিধনে’র দায়ে অভিযুক্ত করে। আর জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান একে গণহত্যার শামিল বলে উল্লেখ করেন। মিয়ানমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সহিংসতার জন্য জঙ্গিদের দোষারোপ করে আসছে। এমনকি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, সাহায্য সংস্থার বিরুদ্ধেও রোহিঙ্গাদের প্রতি পক্ষপাত করে ‘মিথ্যা’ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেছে মিয়ানমার।

বৌদ্ধ প্রধান মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের কোনও নাগরিকত্ব নেই। সেখানে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ অথবা বাংলাদেশ থেকে আগত অবৈধ বাসিন্দা বলে অ্যাখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে। সূত্র : এএফপি।

 

/আরএ/এএ/

x