জয়নাব হত্যার তদন্ত নিয়ে ধোঁয়াশা

বিদেশ ডেস্ক ১৫:০৩ , জানুয়ারি ১৪ , ২০১৮

পাকিস্তানে জয়নাবের ধর্ষক ও হত্যাকারীকে ধরতে লাহোর হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হয়েছে। পাঞ্জাব সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত তাকে আটকের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে প্রকৃত অপরাধী। পৃথক অভিযানে পাকিস্তানের চারটি সংস্থা বেশ কয়েকজনকে আটক করলেও জয়নাব হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে শনিবার হত্যাকাণ্ডের সময়কার দ্বিতীয় সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম ফুটেজের সঙ্গে নতুন করে জনসম্মুখে আসা সিসিটিভি ফুটেজের অনেক পার্থক্য থাকায় তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ৪ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) কোরআন ক্লাসে শেষে বাসায় ফেরার পথে পাঞ্জাবের কাসুর শহর থেকে ছয় বছরের শিশু জয়নাবকে অপহরণ করা হয়। ওই সময় বাবা-মা ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে থাকায় খালার কাছে ছিল সে।  পরে ৯ জানুয়ারি এক পুলিশ সদস্য শাহবাজ খান রোডে আবর্জনার স্তূপ থেকে জয়নাবের মরদেহ উদ্ধার করেন। ময়না তদন্তে দেখা গেছে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে তাকে। ১১ জানুয়ারি এই ঘটনার প্রথম সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে পাঞ্জাব পুলিশ। ওই ফুটেজে এক ব্যক্তিকে এক শিশুর হাত ধরে হাঁটতে দেখা যায়। পুলিশ দাবি করে, সেটি ছিলো শিশু জয়নাবকে দেখা যাওয়ার শেষ মুহুর্ত।

১১ জানুয়ারি তারিখে লাহোর হাইকোর্ট সন্দেহভাজন অপরাধীদের ধরতে  ১২ তারিখ সকাল আটটা থেকে ৩৬ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয় পাঞ্জাব সরকারকে। পরদিন ১৩ জানুয়ারি ওই ফুটেজের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনের স্কেচ প্রকাশ করে পুলিশ। পাকিস্তানের জিও টিভি পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিদর্শক আরিফ নওয়াজ খানকে উদ্ধৃত করে বলছে, ওই ব্যক্তি আসলে ৮টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। জিও নিউজকে তিনি বলেছেন, ‘ডিএনএ পরীক্ষায় একটা বিষয় খুবই পরিষ্কার যে, আগের সাতটি ঘটনার পর এটা আট নম্বর ঘটনা যাতে একই অপরাধী এমন ভয়ংকর অপরাধ করেছে।’  আরিফ নওয়াজ জানান, প্রায় ২২৭ জনকে তদন্ত আর সন্দেহভাজন ৬৭ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন কারও সঙ্গেই ওই ডিএনএ’র মিল পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, নিম্নমানের ছবির কারণে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা কঠিন। সিসিটিভি ফুটেজের রেজুলেশন খুব পরিষ্কার নয়। আমরা রেজুলেশন বাড়িয়েছি কিন্তু তারপরও তা শত ভাগ শনাক্তযোগ্য নয়। আমরা আবারও তা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’

৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) শহরের এক আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার হয় জয়নাবের দেহ

কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, পাঞ্জাব ফরেনসিক সাইন্স সোসাইটি এই ঘটনায় আলাভাবে তদন্ত করছে। ১৩ তারিখ রাত আটটায় প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করতে লাহোর হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হয়। অপরাধী গ্রেফতার না হলেও এদিন তদন্ত প্রচেষ্টায় সফলতার কথা জানিয়ে এই ঘটনায় নতুন একটি সিসিটিভি ভিডিও প্রকাশ করে পাঞ্জাব পুলিশ। নতুন ওই ফুটেজে একজন দাড়িওয়ালা লোককে জয়নাবের বাড়ির সামনে সন্দেজহনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। ধূসর রঙের পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত ওই ব্যক্তির গায়ে ছিল বাদামি জ্যাকেট। কালো রংয়ের টুপি ছিল মাথায়। পুলিশ পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, এই ব্যক্তিকেই এখন পর্যন্ত ‘পারসন অব ইন্টারেস্ট’ বিবেচনা করছেন তারা। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সেই ফুটেজ প্রকাশ করে জানায়, দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকেই ‘পার্সন অব ইন্টারেস্ট’ বিবেচনা করছে পাঞ্জাব পুলিশ।

ব্লগার, সাংবাদিক রাজনৈতিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সোচ্চার হয়েছেন প্রতিবাদে

জয়নাবকে যে এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছে সেই এলাকার স্থানীয়রা ডনকে জানিয়েছেন, অপরাধীকে ধরার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠতে পারে নতুন ফুটেজ। তাদের মতে, নতুন ফুটেজে দেখা যাওয়া ব্যক্তি আর  আগের ফুটেজে পীরওয়ালা রোডে জয়নাবের হাত ধরে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি আলাদা। এছাড়া জয়নাবের স্বজনরা বলছেন সেদিন জয়নব অপহৃত হয় আনুমানিক সন্ধ্যা সাতটার সময়। তবে নতুন সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্টাম্পে দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে বিকাল ৫:২৭ মিনিটে।

স্থানীয়রা আরও বলছেন, নুতন ফুটেজে সন্দেহভাজনকে যে এলাকায় হাটতে দেখা যাচ্ছে সেখান থেকে জয়নাবদের বাড়ি বেশ খানিকটা দূরে। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ডন জানিয়েছে, তদন্তকারীরা নতুন ভিডিওটির ব্যাপারে অবগত নয় বলে জানিয়েছে। শনিবার পুলিশের বরাত দিয়ে ডন-এ সরবরাহকৃত সেই ফুটেজটি আসলে কোত্থেকে এসেছে, কোনও তদন্তকারী ও গোয়েন্দা সংস্থা অথবা কোনও ওয়েবসাইট তার সূত্র সরবরাহ করছে না।

/জেজে/বিএ/

x