প্রধান বাজেট কর্মকর্তারই আস্থা নেই ট্রাম্পের বাজেটে

বিদেশ ডেস্ক ১৪:২৫ , ফেব্রুয়ারি ১৪ , ২০১৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সন্তুষ্ট নন খোদ তার প্রশাসনের প্রধান বাজেট কর্মকর্তা মিক মালভেনি। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মালভেনি সিনেটকে জানিয়েছেন, তিনি যদি আগের মতো কংগ্রেস প্রতিনিধি থাকতেন তাহলে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করতেন না। ২০১৯ সালের জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের খসড়া বাজেটের ওপর সিনেটে অনুষ্ঠিত শুনানিতে মালভেনি তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। অবশ্য বাজেট বিভাগের মুখপাত্র মেঘান বুরিস দাবি করেছেন, মালভেনি বাজেট নিয়ে নয় বরং দুই বছরের জন্য খরচের সীমা নির্ধারণ করে যে বিল পাস হয়েছে তার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন।

মালভেনি ও ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দেনা ২০০ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তারপরও বিশাল অংকের ঘাটতি রেখে সম্প্রতি খসড়া বাজেট পেশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত সপ্তাহে কংগ্রেসে পাস হওয়া ভর্তুকি দিয়ে কর হার কমানোর আইন পাস ও দুই বছরের জন্য খরচের মাত্রা নির্ধারণ করার বিল পাসের কারণে প্রাক্কলিত ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। মিক মালভেনি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের’ পরিচালক। কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষের সাবেক সদস্যও তিনি। রিপাবলিকান হিসেবে ঘাটতি বাজেটের বিরুদ্ধে তার অবস্থান। মঙ্গলবার ট্রাম্পের প্রধান এই বাজেট কর্মকর্তা  সিনেটকে জানিয়েছেন, তিনি কংগ্রেসে থাকলে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করতেন না।

তিনি যদি ট্রাম্পের প্রশাসনে চাকররিরত না থাকতেন তাহলে বাজেটের এত বড় ঘাটতিকে তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করতেন কি না, সিনেট কমিটির এমন প্রশ্নের জবাবে মালভেনি বলেন, ‘আমি খুব সম্ভবত অনেক ত্রুটি চিহ্নিত করতাম এর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য’।

ম্যানেজমেন্ট ও বাজেট বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের মুখপাত্র মেঘান বুরিস অবশ্য পরে মিক মালভেনির বক্তব্যের অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, মালভেনি বাজেট নিয়ে নয় বরং দুই বছরের জন্য খরচের সীমা নির্ধারণ করে যে বিল পাস হয়েছে তার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন।

বুরিস বলেছেন, ‘এটা পরিষ্কার করা দরকার যে মালভেনি সিনেটর মুরের প্রশ্নের জবাবে যা বলছেন তা খসড়া বাজেটের বিরুদ্ধে নয়। এটাই স্বাভাবিক যে তিনি প্রেসিডেন্টের ২০১৯ সালের জন্য প্রস্তাব করা খসড়া বাজেটের পক্ষেই ভোট দিতেন।’

কিন্তু সিনেটে হওয়া কথোপকথন বলছে ভিন্ন কিছু। শুনানিতে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর প্যাটি মুরে বলেছিলেন, তিনি গত শনিবার শুনেছেন প্রস্তাবিত বাজেটের এই ঘাটতি নিয়ে মিক মালভেনির অনাস্থা আছে। তাকে তিনি বলতে শুনেছেন, তিনি যদি সিনেটে থাকতেন তাহলে এই বাজেটকে ভোট দিতেন না।

‘সুতরাং আমি আপনাকে দ্বিমুখী অবস্থান থেকে সরে আসার সুযোগ দিতে চাই। যদি আপনি কংগ্রেসের সদস্য থাকতেন, তাহলে কি আপনি এই বাজেটের পক্ষে ভোট দিতেন, যে বাজেট আপনি নিজেই উপস্থাপন করেছেন’, জানতে চেয়েছিলেন মুরে।

জবাবে মালভেনি বলেছিলেন, ‘কংগ্রেসে নির্বাচিত সদস্য হিসেবে থাকলে আমি এই বাজেটের যথেষ্ট খুঁত বের করতাম এর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য, ঠিক যেমন কমিটির অনেক সদস্য করেছেন। কিন্তু আমি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট বিভাগের পরিচালক। আমার দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এমন প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য কাজ করা এবং আমি ঠিক তা-ই করেছি।’

৯৮৪ বিলিয়ন ডলারের মতো বড় ঘাটতির বাজেট পেশ ও তার প্রস্তুতিতে মালভেনির মতো ঘাটতি বিরোধী মনোভাবের রিপাবলিকানের অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দেয়, রিপাবলিকানরা রক্ষণশীল অর্থনৈতিক ধারণা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোয়েন অ্যান্ড কোংয়ের এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির গবেষক ক্রিস ক্রুইগার মন্তব্য করেছেন, ‘ট্রাম্পের বাজেটে যে ঘাটতি তা রিপাবলিকানদের ঘাটতি বাজেটের বিরুদ্ধে থাকার নীতির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে।’

/এএমএ/এফইউ/

x